অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম জরুরি বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন ভোটের ফলাফল। ২ মার্চ, ২০২২, ছবি- রয়টার্স/এডুয়ার্ডো মুনোজ
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম জরুরি বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন ভোটের ফলাফল। ২ মার্চ, ২০২২, ছবি- রয়টার্স/এডুয়ার্ডো মুনোজ

ইউরোপের সাম্প্রতিক যুদ্ধে পাকিস্তানের চেয়ে খুব কম দেশই এমন দোটানা অবস্থায় রয়েছে । পাকিস্তান ইউক্রেন থেকে সামরিক ট্যাঙ্ক কিনে থাকে এবং এখন রাশিয়া থেকে ২ মিলিয়ন টন গম আমদানি করতে সম্মত হয়েছে।

নেটোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, পাকিস্তান বুধবার রাশিয়ার আক্রমণের নিন্দা বিষয়ক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের ভোটদান থেকে বিরত থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ: ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ সহ আরও ৩৪টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি মুনির আকরাম বলেছেন, পাকিস্তান বিরত ছিল কারণ এই প্রস্তাবে রাশিয়ার কিছু নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের কথা বলা হয়নি।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাত করতে ক্রেমলিনে গিয়েছিলেন, যেদিন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেন, তাই ইউক্রেন সংঘাতে পাকিস্তানের ভোটদানে বিরত থাকা প্রত্যাশিতই ছিল।

ইমরান খান সোমবার একটি টেলিভিশন ভাষণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো এড়িয়ে যান, পরিবর্তে মস্কোতে বহুল সমালোচিত সফরের পক্ষে কথা বলেন এবং জাতিকে প্রতিশ্রুতি দেন যে পাকিস্তান রাশিয়ার কাছ থেকে ২ মিলিয়ন টন গম পাবে। খান ইউক্রেনের সাথে তার দেশের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যান।

পরের দিন একটি সংবাদ সম্মেলনে, ইসলামাবাদে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত, মার্কিয়ান চচুক, পাকিস্তানকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা আগের বছর ইউক্রেন থেকে ১৩ লক্ষ টন গম আমদানি করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে ইউক্রেনের গম পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তায় সাহায্য করেছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, "আমরা আশা করি যে আমাদের পাকিস্তানি অংশীদাররা যুদ্ধের নিন্দা করার জন্য সক্রিয় অবস্থান নেবে এবং রাশিয়ানদের উত্তেজনা কমাতে এবং এর আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে।"

ভয়েস অফ আমেরিকার দিওয়া সার্ভিসের সাথে একটি সাক্ষাত্কারে, অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি এয়ার মার্শাল শহীদ লতিফ বলেছেন, "সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে, প্রযুক্তিতে ইউক্রেন সে এলাকায় সেরা ছিল। পাকিস্তান চীন থেকে ট্যাঙ্ক পেয়েছিল, কিন্তু ইউক্রেনের তৈরি ট্যাঙ্কগুলি ক্ষমতার দিক থেকে সেরা ।"

গত বছর, জেনস রিপোর্ট করেছে যে পাকিস্তান ২০২১ সালে ৩২০টি ইউক্রেনীয় টি-এইটিইইউএস ট্যাঙ্কের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউক্রেনকে ৮ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। ট্যাঙ্কগুলি পাকিস্তান আর্মড কোরের ট্যাঙ্ক ফ্লিটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যা চীনের তৈরী নয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমজাদ শোয়েব ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, "আমাদের কাছে আল-জারার এবং টি-এইটিইউডি ট্যাঙ্ক রয়েছে। আমাদের কাছে আধুনিক চীনা ট্যাঙ্কও রয়েছে, কিন্তু আপনি বলতে পারেন টি-এইটিইউডি ট্যাঙ্কগুলি আমাদের প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক।"

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি একতরফা নয়। ২০২১ সালের মে মাসে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে কিয়েভে একটি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী অনার গার্ড দিয়ে স্বাগত জানায়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জারি করা একটি বিবৃতি অনুসারে, দুই দেশ সামরিক সম্পর্ক উন্নত করতে সম্মত হয়েছিল, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা উত্পাদনে। পরে, বাজওয়া ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে সামরিক কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন, যা বর্তমানে রাশিয়ার অবরোধের অধীনে রয়েছে এবং এটি দেশের ট্যাঙ্ক-উৎপাদন কেন্দ্রস্থল।

This item is part of
XS
SM
MD
LG