অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জলসীমা অতিক্রম করায় উত্তর কোরিয়ার জাহাজে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ দক্ষিণ কোরিয়ার


উত্তর কোরিয়ার টহল জাহাজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিতর্কিত পশ্চিম সমুদ্র সীমা অতিক্রম করায় সতর্কতামূলক গুলি ছোঁড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। (ছবি- এপি)

উত্তর কোরিয়ার একটি টহল জাহাজ কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে আন্তকোরীয় সমুদ্র সীমান্ত ((কার্যত সমুদ্রে দুই দেশের জলসীমা) অতিক্রম করায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সেটাকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের একটি বিবৃতি অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ তথাকথিত নর্দান লিমিট লাইন (এনএলএল) অতিক্রমকারী আরেকটি উত্তর কোরিয়ার জাহাজকে আটক করায় খণ্ড যুদ্ধটি ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার যে টহল জাহাজটি প্রথম জাহাজটিকে অনুসরণ করছিল, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পরে সেটি পিছু হটে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী অন্য জাহাজটিকে আটক করে কাছের বেকরিয়ং দ্বীপে নিয়ে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটির সাতজন ক্রু সদস্যের মধ্যে ছয়জন সামরিক ইউনিফর্ম পরা ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার একজন সামরিক মুখপাত্র ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন যে, সিউল আটক নৌযানটির ধরন নিয়ে তদন্ত করছে।

আন্তকোরীয় সীমান্তে মাঝে মাঝেই ছোট ছোট সংঘর্ষ হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চুন ইন-বামের মতে, উত্তেজনা কমাতে দুই দেশ ২০১৮ সালে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পর এটিই প্রথম উত্তর কোরিয়ার সামরিক জাহাজ, যেটি এনএলএল অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন দেশটির আসন্ন নির্বাচনে তার উত্তরসূরি হিসেবে যাকে বেছে নিয়েছেন তিনি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক তৈরির পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে এই ঘটনাটি ঘটল।

শাসক দলের প্রার্থী লি জায়ে-মিউং উত্তরে মুনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল ইউন সিওক-ইউল আরও প্রতিকূল সম্পর্কের কথা বলেছেন।

অতীতে, উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনের ঠিক আগে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে চুন বলেছেন যে, সাম্প্রতিক সমুদ্র সীমান্ত সংঘর্ষের বিষয়টি সম্ভবত কাকতালীয়।

২০১৯ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার পরিবর্তে, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বৃদ্ধি করেছে। শুধুমাত্র এ বছরই, উত্তর কোরিয়া নয় দফায় ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

উত্তর কোরিয়া বলেছে যে, তার শেষ দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা মূলত নিরীক্ষণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির অংশ ছিল। এই পদক্ষেপটি উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া বারবার বলে আসছে, তার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এগুলোকে ছদ্মবেশী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। পিয়ংইয়ং সর্বশেষ ২০১৬ সালে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল।

XS
SM
MD
LG