অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বে কোভিডে সবচেয়ে খারাপ মৃত্যুর হার হংকংয়ে


হংকং এর একটি হাসপাতালের শব ঘরে মৃতদেহ। মার্চ ৩ ২০২২। (ছবি- রয়টার্স)
হংকং এর একটি হাসপাতালের শব ঘরে মৃতদেহ। মার্চ ৩ ২০২২। (ছবি- রয়টার্স)

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঢেউটি সংক্রমণের শীর্ষে পৌঁছে গেলেও, কোভিড-১৯ মৃত্যুর দিক থেকে হংকং এখনো বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।

হংকংয়ে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটায় কর্তৃপক্ষ ভাইরাস মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাধ্যতামূলক কোভিড পরীক্ষার নিয়ম জারি করে।

তবে এখন সংক্রমণের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

হংকং ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা বিভাগের ডিন গ্যাব্রিয়েল লেউং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হালনাগাদকৃত গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, গত সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে।

“পঞ্চম তরঙ্গ ৪ মার্চ শীর্ষে পৌঁছেছে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা এক হাজারের নিচে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক শর নিচে নামবে” বলে টুইটারে লেখেন লেউং।

মিশ্র বার্তা

গত সপ্তাহে, হংকংয়ে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল ৫৬ হাজার ৮২৭। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের হার শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। শহরব্যাপী সম্ভাব্য লকডাউনের আশঙ্কায় তারা নিত্য ব্যবহার্য পণ্য কিনতে সুপার মার্কেটগুলোতে ভিড় করেছে।

তবে সম্প্রতি সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার হংকংয়ে কোভিড শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৪৭৫। এই নিয়ে চতুর্থ দিনের মতো দৈনিক সংক্রমণ ৫০ হাজারের নিচে ছিল।

“আমি মনে করি আমরা ৩-৪ দিন আগে শীর্ষে পৌঁছেছি। মার্চ মাসের শেষের দিকে খুব দ্রুত সংক্রমণ হ্রাস পাওয়া উচিত এবং প্রতিদিন কমতে থাকা উচিত। (এটা) ঠিক যে গতিপথ অনুসরণ করে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছিলাম, একটি খাঁড়া ও তীক্ষ্ণ ঊর্ধ্বগতি এবং নিন্মগতি”, হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈতনিক সহকারী অধ্যাপক, ডেভিড ওয়েনস ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেছেন।

গণপরীক্ষা

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টায় হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম সম্প্রতি এই মাসে সকল জনগণের জন্য একটি সর্বজনীন পরীক্ষার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এতে প্রতিটি বাসিন্দার তিনটি নিউক্লিক অ্যাসিড পরীক্ষা করা হবে। স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে, সর্বজনীন পরীক্ষার প্রকল্পটি ২৬ মার্চ শুরু হবে এবং শেষ নয় দিন চলবে।

তবে নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শহরে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর হার কমানোর দিকে মনোনিবেশ করার প্রয়োজনে পরীক্ষা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হতে পারে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে।

রেকর্ড মৃত্যুর হার

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকেরা হংকংয়ের পঞ্চম তরঙ্গের ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে নিয়মিতভাবে পূর্বাভাস দিয়েছেন।

একটি পূর্বাভাসে বলা হয়, হংকংয়ের বর্তমান স্থিতাবস্থায় মে মাসের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি মৃত্যু হতে পারে এবং শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা চাপের মধ্যে থাকবে সেটিও এই মৃত্যুর ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভয়াবহ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, জুনের মধ্যে হংকংয়ে সাত হাজার পর্যন্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।

দেখা যাচ্ছে, হংকংয়ের কোভিড-১৯-এ প্রতি মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর হার ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য প্রকাশনা আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুসারে, হংকংয়ে ৭ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের গড় হিসাবে প্রতি মিলিয়নে ২৯ দশমিক ১৮ জনের দৈনিক মৃত্যু হয়েছে।

জিরো-কোভিড কৌশল

দুই বছর ধরে হংকং চীনের মূল ভূখণ্ডের কোভিড নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি “শূন্য-কোভিড” সংক্রমনের কৌশলকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই কৌশল থেকে কিছু সাফল্যও এসেছে। তবে শুধুমাত্র এই বছরই, হংকংয়ে ২০২০ ও ২০২১ সালের চেয়ে বেশি কোভিড সংক্রমণ দেখা গেছে।

শহরের বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, হংকংয়ের পক্ষে শূন্য সংক্রমণে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লিয়াং ওয়ানিয়ান চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কৌশলটি অর্জন করা যেতে পারে, তবে সেটা পর্যায়ক্রমে এবং তার আগে মৃত্যুর হার কমাতে হবে।

“বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ, গুরুতর রোগী এবং মৃত্যু হ্রাস করা হংকংয়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি এবং প্রথম অগ্রাধিকার। প্রথম লক্ষ্য অর্জন করার পরে, আমরা ধাপে ধাপে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লক্ষ্যে এগিয়ে যাব”, লিয়াং বলেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে কয়েক ডজন অসুস্থ রোগীকে ঠান্ডা আবহাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, হাসপাতালগুলোর বেড খালি না থাকায় নতুন রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়।

হংকংয়ের কারিতাস হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্যকর্মী বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে তার কেয়ার হোম থেকে বয়স্ক রোগীরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

“তারা আইসোলেশনে থাকতে পারছেন না, কারণ তারা একই পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে এসেছেন। ওই কেন্দ্রগুলোর কর্মীরা সম্ভবত সংক্রামিত। তাই, রোগীদের আক্ষরিক অর্থে কোথাও যাওয়ার নেই এমনকি তারা নেগেটিভ হলেও”, তিনি বলেন।

XS
SM
MD
LG