অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর দুই আমেরিকানকে মুক্তি দিয়েছে ভেনিজুয়েলা


ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রতিবাদে ভেনিজুয়েলার কারাকাসে জাতিসংঘ কার্যালয়ের বাইরে যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভ। মার্চ ৮ ২০২২। (ছবি- রয়টার্স)
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের প্রতিবাদে ভেনিজুয়েলার কারাকাসে জাতিসংঘ কার্যালয়ের বাইরে যুদ্ধ বিরোধী বিক্ষোভ। মার্চ ৮ ২০২২। (ছবি- রয়টার্স)

ভেনিজুয়েলার কারাগারে আটক যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে দুজন নাগরিককে দেশটি মঙ্গলবার (৮ মার্চ) মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদলের কারাকাস সফরের পরে বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আপাত শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ভেনিজুয়েলা বন্দীদের মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে গুস্তাভো কার্ডেনাস নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিটগো তেল কোম্পানির ছয়জন নির্বাহীর মধ্যে তিনি একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দাবি বানোয়াট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি, সূত্র জানিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত আরেকজন হলেন একজন কিউবান আমেরিকান এবং তাকে সম্পর্কহীন অভিযোগে আটক করা হয়েছিল বলে জানান তারা।

সপ্তাহান্তের এই বৈঠকটি শুধুমাত্র বন্দী আমেরিকানদের মুক্তির জন্যে আয়োজন করা হয়নি। বরং ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার পরে সরবরাহের শূন্যতা পূরণের জন্য রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ওপেকের সদস্য ভেনিজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করার বিষয়ে আলোচনাও এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল।

মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

ওয়াশিংটন তথাকথিত “সিটগো ছয়”, দুই প্রাক্তন গ্রিন বেরেটস এবং একজন প্রাক্তন ইউএস মেরিন সদস্যসহ কমপক্ষে নয়জনের মুক্তি চেয়েছে।

এই প্রতিনিধিদলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলায় ভ্রমণকারী সর্বোচ্চ পদাধিকারী আমেরিকান প্রতিনিধিদল। রবিবার ভেনিজুয়েলার একটি কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মিবিষয়ক দূত রজার কারস্টেন্স এই দলের একজন ছিলেন এবং তিনি মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে ভেনিজুয়েলায় থেকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার কারাকাসে আলোচনার পরে মঙ্গলবার বন্দী মুক্তির সিদ্ধান্ত এসেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হামলার কারণে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে বাইডেন প্রশাসন গ্যাসের দামের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রশমিত করার উপায় খুঁজছিল।

বাইডেন মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে মঙ্গলবার রাশিয়ার তেল ও অন্য জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ভোক্তাদের জন্য দাম আরও বাড়াতে এবং নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রু মাদুরোর সঙ্গে আলচনার লক্ষ্য ছিল ভেনিজুয়েলা রাশিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে প্রস্তুত কি না তা নির্ধারণ করা।

তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা মাদুরোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য বাইডেন প্রশাসন ক্যাপিটল হিলে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন।

XS
SM
MD
LG