অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সুদানের গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায় : জাতিসংঘ


সুদানের রাজধানী খার্তুমে সামরিক অভ্যুত্থান-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয় দেশটির নারীরাও। ৮ মার্চ, ২০২২।

জেনেভা — সুদানে অক্টোবরের সামরিক অভ্যুত্থান দেশটির নব্য গণতন্ত্রের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দেশটির জন্য বেশ কঠিন হবে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে তাঁর উপস্থাপিত ওই প্রতিবেদনে, ২০১৯ সালের এপ্রিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে, দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখীতার নিন্দা করেছেন।

তিনি বলেন, অক্টোবরের সামরিক অভ্যুত্থান আবারও সুদানকে গভীর এক সংকটে নিমজ্জিত করেছে। তখন থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সাথে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। ফলে হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী তাদের অধিকারের দাবিতে সুদানের রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “ একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগও অব্যাহত রয়েছে। তাজা অস্ত্র এবং মেশিনগান ও শট গানের মতো আক্রমণকারী অস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে অস্ত্র হিসেবে কাঁদানে গ্যাসের ক্যানেস্ত্রা তাদের উপর নিক্ষেপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে। (ফাইল ছবি)
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে। (ফাইল ছবি)

প্রতিবেদনে হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের উপর হামলাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই অবস্থাকে বিশিষ্ট প্রতিবাদ সংগঠক এবং বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার কিংবা আটকের একটি প্যাটার্ন বলে প্রতিবেদনে বর্ণিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এমনকি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিশুরাও নিহত, আহত এবং গ্রেপ্তার হয়েছে।

ব্যাচেলে নারী, মেয়ে, এমনকি পুরুষদের উপর কয়েক ডজন ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরণের যৌন সহিংসতার অভিযোগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিক এবং মানবাধিকার রক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আক্রমণ, দেশটিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের উপর একটি গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেন।

তবে সুদানের ভারপ্রাপ্ত বিচার মন্ত্রী, মোহাম্মদ সাইদ আল-হিলো বলেছেন, তার সরকার সুদান কর্তৃক অনুমোদিত মানবাধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক কনভেনশনগুলিকে সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ – এছাড়া তার দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রূপান্তর করার জন্যও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি অপরাধের জন্য বিচারের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা ছাড়া বাকী সকল রাজনৈতিক বন্দীকে ইতোমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

XS
SM
MD
LG