মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধটি সাম্প্রতিক মাসগুলোর বর্বর আগ্রাসন সত্বেও টিকে আছে এবং হয়ত শক্তিও বৃদ্ধি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এক বছরেরও বেশি সময় আগে দেশটির সামরিক বাহিনী একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন যে, গ্রামাঞ্চলে গোড়াপত্তন হলেও প্রতিরোধ বাহিনীগুলো বর্তমানে কিছু কিছু মফস্বলে এবং শহরেও সামরিক বাহিনীর উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ম্যাথিউ আর্নল্ড একজন নিরপেক্ষ বিশ্লেষক, যিনি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “সামরিক বাহিনীকে শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চলেই লড়াই করতে হচ্ছে না; তাদেরকে প্রাদেশিক শহরগুলোর ঠিক আশেপাশেও লড়াই করতে হচ্ছে।”
ফেব্রুয়ারি ২০২১ এর সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে হওয়া গণবিক্ষোভে, সামরিক বাহিনীর দমনের কারণে একজোট হয়ে, দেশব্যাপী শহর ও মহল্লাগুলো সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছে। সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে তারা প্রধানত নিম্নমানের রাইফেল এবং বিস্ফোরকই ব্যবহার করছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ৩৫০টি মিলিশিয়া নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছে। এই বাহিনীগুলো গণ প্রতিরক্ষা বাহিনী বা পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) নামে পরিচিত।
জেনস ডিফেন্স পাবলিকেশন এ কর্মরত, ব্যাংকক ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যান্টনি ডেভিস বলেন যে, প্রতিরোধ বাহিনী সম্পর্কিত সঠিক সংখ্যা নির্ণয় “প্রায় অসম্ভব”।
তিনি আরও বলেন, “তবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে লক্ষ লক্ষ মানুষ পিডিএফ এর কর্মকান্ড সমর্থন করে, যেটি দেখে নিশ্চিতভাবেই মনে হয় যে সেগুলো কিছু কিছু অঞ্চলে গেড়ে বসেছে এবং হয়ত আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মিয়ানমারের ৩৩০টি শহরতলীর মধ্যে, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২৫০টিরও বেশিতে কোন না কোন ধরণের সশস্ত্র প্রতিরোধ হয়েছে বলে, আর্নল্ড জানান। সেগুলোর মধ্যে অন্তত ১৫০টিতে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকটিতে সংঘাত বজায় থেকেছে।
মতামতের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, সামরিক জান্তার কোন মুখপাত্রের সাথে সংযোগ করা সম্ভব হয়নি।