পাকিস্তান এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবাহিনীতে ছয়টি চীনা জে-১০সি যুদ্ধ বিমানের প্রথম ব্যাচ অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শুক্রবার (১১ মার্চ) দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি ভাষ্য চীনা জেটটিকে “প্রাচ্যের ড্রাগন” বলে অভিহিত করেছে। “ওমনি-রোল” (এক সঙ্গে অনেক ধরনের কাজ করতে পারে এমন) বিমানটি উন্নত ইলেকট্রনিকস অস্ত্রে সজ্জিত বলেও জানানো হয়।
গত মাসে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ এক অনুষ্ঠানে বিমান কেনার কথা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, বিমানটি ভারতের ফরাসি ড্যাসাল্ট রাফাল বিমান মোতায়েনের পাল্টা জবাব হিসেবে কেনা হয়েছে। আহমেদ বলেন, ২৫টি চীনা জে-১০সি বিমানের একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন ২৩ মার্চ রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন যে, চীনের সঙ্গে ২০২১ সালের জুনে জে-১০সি বিমান ক্রয়ের চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
রাজধানী শহর থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কামরা বিমান ঘাঁটিতে আয়োজিত শুক্রবারের অনুষ্ঠানে ইমরান খান বলেন, “আমি চীনের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ এবং প্রায় আট মাসের রেকর্ড সময়ে আমাদের এই জেট বিমান সরবরাহ করার জন্য আমার জাতির পক্ষ থেকে চীনকে ধন্যবাদ জানাই।” অনুষ্ঠানে চীনা কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
“উপমহাদেশে একটি (নিরাপত্তা) ভারসাম্যহীনতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে”, প্রধানমন্ত্রী ইমরান ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন। “নিরাপত্তা ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি বড় সংযোজন”।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশ দুটি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে তিনটি যুদ্ধ করেছে। বিভক্ত কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলমান আঞ্চলিক বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সামরিক উত্তেজনার মূল উৎস।
পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল জহির আহমেদ বাবের শুক্রবারের জে-১০সি জেট বিমানের অন্তর্ভুক্তিকে পাকিস্তানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র তার অ-নেটোভুক্ত মিত্র পাকিস্তানের কাছে উন্নত সংস্করণের এফ-১৬ জেট বিক্রি করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের হিমশীতল সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ এশীয় দেশটিকে প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে চীনের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভর করতে প্ররোচিত করেছে। এ ছাড়া পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের চরম শত্রু রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে সচেষ্ট।
ইমরান খান গত সপ্তাহে মস্কো সফর করেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার সামরিক বাহিনীকে ইউক্রেন আক্রমণ করার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে তিনি পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন।
ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের জোরালো চাপ স্বত্ত্বেও ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য মস্কোকে নিন্দা জানানো থেকে বিরত থেকেছে। এর পরিবর্তে সংকট অবসানে সংলাপ ও কূটনীতিক সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের কারণে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফরের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে এমন খবরের সত্যতাও অস্বীকার করেছেন।
“আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অব্যাহত সমর্থন চাই”, তিনি উল্লেখ করেন।