অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন ও রাশিয়ার শান্তি আলোচনা আবার শুরু

ইউক্রেনের জরুরী বিভাগের ১৪ মার্চের হ্যান্ডআউটের এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে শেলের আঘাতে আগুন লাগা কিয়েভের অবোলন জেলার একটি ভবনে আগুন নেভাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। (ছবি- এএফপি)
ইউক্রেনের জরুরী বিভাগের ১৪ মার্চের হ্যান্ডআউটের এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে শেলের আঘাতে আগুন লাগা কিয়েভের অবোলন জেলার একটি ভবনে আগুন নেভাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। (ছবি- এএফপি)

নেটো সদস্য রাষ্ট্র পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়ার একটি প্রাণঘাতী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পরে সোমবার (১৪ মার্চ) ইউক্রেন ও রুশ প্রতিনিধিরা আবার শান্তি আলোচনা শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার রাতের ভাষণে বলেন, এই হামলার কারণে রবিবারের দিনটি তার দেশের জন্য একটি “কালো দিন” হিসেবে পরিগণিত হবে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ইউক্রেনীয় সেনাদের সঙ্গে নেটো ইউনিটের প্রশিক্ষণের ঘাঁটিতে হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে পশ্চিমা নেতাদের আগেই “স্পষ্টভাবে সতর্ক” করেছিলেন।

“এতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোষ্ঠীগুলোর অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই”, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান রবিবার সিএনএনকে বলেন।

“এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষুদ্ধ হয়েছেন যখন দেখেছেন তার বাহিনী আশানুরূপ অগ্রগতি লাভ করেনি”।

“যদি রাশিয়া হামলা চালায়, গুলি চালায় বা নেটো অঞ্চলে গুলি চালায়, নেটো জোট তার জবাব দেবে”, সিবিএস নেটওয়ার্কের “ফেস দ্য নেশন” অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাত্কারে সালিভান সতর্ক করেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রবিবার রাতে বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মানবিক করিডোর এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রতিদিন আলোচনায় বসছেন।

এদিকে, সালিভান এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সোমবার রোমে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটবুরো (কমিউনিস্ট দলের প্রধান নীতিনির্ধারক) সদস্য এবং ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিশনের অফিসের পরিচালক ইয়াং জিচির সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।

রবিবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য মস্কো চীনের কাছে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার অনুরোধ করেছে। এর আগে, হোয়াইট হাউস রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করলে চীনকে গুরুতর “পরিণাম” ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে।

এ ছাড়া রাশিয়া ইউক্রেনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কার বিষয়ে রবিবার সালিভান প্রতিক্রিয়া জানান।

“কখন বা কোথা থেকে হামলা হবে আমরা সেটা জানি না”, সিবিএসে সালিভান বলেন। এ সময় রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্র রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র প্রস্তুত করছে রাশিয়ার এমন মিথ্যা অভিযোগ উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“এর থেকেই বোঝা যায় রুশরাই বরং এটা প্রস্তুত করছে” এবং তা ঢাকতে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে, বলেন সালিভান।

এনবিসির “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠানে সালিভান বলেন, আমরা এই বিষয়ে আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি এবং আমরা সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত”। তিনি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হলে রাশিয়া মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হবে।

ইউক্রেনের মানবাধিকার ন্যায়পাল বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের পোপাসনা শহরে রাতারাতি হামলায় রাশিয়ানরা ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ভয়েস অফ আমেরিকা তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সক্ষম হয়নি। যদিও ফসফরাসকে রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, তবে মানুষের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নেটোর কাছে তার দেশের ওপর একটি নো-ফ্লাই জোন আরোপ করার আবেদন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এটি না করলে “যে কোনো সময় আপনাদের ভূখণ্ডে, নেটোভুক্ত দেশের সীমায়” রাশিয়া রকেট হামলা চালাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি এবং গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রাশিয়ার সাঁজোয়া ইউনিটগুলো বিরতির পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখল করতে আবার একটি বড় হামলা করতে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ঘেরাও করা দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের বন্দর শহর মারিউপোলের দিকে সরে গেছে।

“আমরা ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে মানবিক করিডোরের মাধ্যমে নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নিয়েছি”, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রবিবারের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিও ভাষণে বলেছিলেন।

“আমরা দখলদারদের মোকাবিলা করার জন্য সবকিছু করছি। তারা এমনকি সাহায্য, খাদ্য, পানি এবং ওষুধ সরবরাহ করতে আসা অর্থোডক্স পুরোহিতদেরও বাধা দিচ্ছে। ইউক্রেন তার নাগরিকদের জন্য ১০০ টন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়েছে”।

[এই প্রতিবেদন লিখতে জেফ সেলডিন এবং সিন্ডি সাইন ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস এবং রয়টার্স থেকেও কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG