অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরবিলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপক নিন্দা করেছেন ইরাকের রাজনৈতিক নেতারা


ইরাকের ইরবিলে ক্ষতিগ্রস্ত কুর্দিস্তান স্যাটেলাইট স্টুডিও। মার্চ ১৩ ২০২২। (ছবি- এপি)

ইরাকের রাজনৈতিক নেতারা দেশটির উত্তরের শহর ইরবিলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। এই হামলায় কিছু আবাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গভীর রাতের এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। কুর্দি এই শহরে একটি কথিত ইসরাইলি “ষড়যন্ত্রের কৌশলগত কেন্দ্র” লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়।

প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরু মুকতাদা আল-সদর এক বিবৃতি জারি করে সরকারের প্রতি “জাতিসংঘ এবং ইরানের রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে এই মর্মে নিশ্চয়তা নিতে” আহ্বান জানিয়েছেন যে, “ভবিষ্যতে (হামলা) এর পুনরাবৃত্তি হবে না”। মুকতাদা আল-সদরের রাজনৈতিক দল ইরাকের সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, আল-সদরের নিছক নিন্দার চেয়ে শক্তিশালী এই প্রতিক্রিয়া জানান দেয় তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাকে ইরানের জনপ্রিয়তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ইরাকে সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

ইরাকি পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন প্রবীণ কুর্দি রাজনীতিবিদ মাহমুদ ওথমান ইরানের এই আক্রমণটির সঙ্গে ইরবিলে শাসকদল কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির (কেডিপি) আল-সদর এবং সুন্নি রাজনীতিবিদদের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য একটি রাজনৈতিক চুক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন। চুক্তিতে ইরানের মিত্র শিয়া দলগুলো অর্থাৎ ফাতাহ জোটকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

“ইরান প্রকাশ্যে বলেছে যে, এই হামলার পেছনে তাদের হাত রয়েছে”, ওথমান ফোনে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন।

“[ইরানিরা] বলে যে তারা এই অঞ্চলে ইসরাইলি ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বাস্তবে, তারা আল-সদর এবং অন্যদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনে কেডিপির অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। তারা এটাকে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীর অবনমন হিসেবে দেখছেন”, তিনি যোগ করেন।

অক্টোবরে ইরাকে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কলহ এবং ব্যর্থ আলোচনার কারণে একটি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় হামলার কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে শহরের অন্তত একটি তিনতলা ভবন এবং একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের একটি স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরবিলের গভর্নর ওমেদ খোশনাও ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন যে, হামলার দিনটি কাকতালীয়ভাবে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির জন্মদিনের সঙ্গে মিলে গেছে। তিনি বলেন, শহরে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটকে লক্ষ্য করে হামলা হলেও ভবনটির কোনো ক্ষতি হয়নি। দুই বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরানের জবাবদিহিতা আদায় করতে আমরা ইরাক সরকারকে সমর্থন করব এবং ইরানের অনুরূপ হুমকি মোকাবিলায় আমরা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে থাকব। যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে থাকবে।”

বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা করেছে এবং এটিকে একটি “অপরাধমূলক” কাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এর জন্য ইরানকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

ইরাকের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি এই হামলাকে “সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্তের কারণে, দেশটির উত্তরের কুর্দিরা এই আক্রমণের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি ইরানের এই “কাপুরুষোচিত এবং অযৌক্তিক” হামলার বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন করেছেন।

“এমনভাবে ইরবিলকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি, একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। কারণ এটি ইরাকের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন”, বারজানির ইংরেজি ভাষার বিবৃতিতে বলা হয়।

[এই প্রতিবেদনটি দিলশাদ আনোয়ারের সহায়তায় ভয়েস অফ আমেরিকার কুর্দি সার্ভিসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল]

XS
SM
MD
LG