অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনের যুদ্ধ খাদ্যাভাব আরও বাড়াবে, বলেছে জাতিসংঘের সংস্থা


দক্ষিণ ইউক্রেনের মাইকোলাইভে, রাশিয়ান রকেট আক্রমণে একটি সামরিক স্কুলে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মৃতদেহের সন্ধান করছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা। ওই হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন ইউক্রেনীয় সৈন্য নিহত হয়। ১৯ মার্চ, ২০২২।

জেনেভা — বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করছে, ইউক্রেনের মানবিক সংকট সেখানে মারাত্মক খাদ্য ঘাটতি এবং তীব্র খাদ্যাভাবের ঝুঁকি তৈরি করবে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও অপুষ্টি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ফলে দশ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তারা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন।

ইউক্রেনের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরুরি সমন্বয়কারী জ্যাকব কার্ন বলেছেন, যুদ্ধ বহু মানুষকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন একটি প্রধান কৃষি উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, বিশেষ করে খাদ্য সংকট রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোতে।

পোল্যান্ডের ক্রাকোতে ডব্লিউএফপির আঞ্চলিক অফিস থেকে কার্ন বলেন যে, সংস্থাটি এক মাসের জন্য তিন মিলিয়ন (৩০ লাখ) মানুষকে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার সংগ্রহ করেছে।

“দেশের খাদ্য সরবরাহ চেইন ভেঙ্গে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা এবং গাড়ি চালাতে চালকদের অনিচ্ছার কারণে নিপ্রোর মতো জায়গায় পণ্য পরিবহনের গতি ধীর হয়ে গেছে। মারিউপোল বা সুমির কথা তো বাদই দিলাম।… আমরা অংশীদার এবং শহর প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের জন্য খাবার, বেকারির জন্য গমের আটা এবং অবরুদ্ধ শহরগুলোর কাছে খাবারের রেশনের ব্যবস্থা করেছি”, কার্ন বলেছেন।

কৃষ্ণ সাগর অববাহিকা ইওরোপের রুটির ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও কৃষি উৎপাদন এলাকা এবং বিশ্বব্যাপী শস্য বাণিজ্যের পথ। উল্লেখ্য, রাশিয়ান বাহিনী ৩০০টি জাহাজকে কৃষ্ণ সাগর ছেড়ে যেতে বাধা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

কার্ন বলেছেন যে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা ইউক্রেন এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে লাখ লাখ মানুষকে ক্ষুধার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

“ইউক্রেনের সংঘাতের ফলাফল বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে, সারা বিশ্বজুড়ে খাদ্যাভাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন একাই বিশ্বব্যাপী গম বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে। সেই চালানগুলো এখন আটকে আছে। ইউক্রেন নিজেই পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক। সুতরাং, এর একটি বড় প্রভাব আছে”, কার্ন বলেন।

উদাহরণ হিসেবে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মিসর তার গমের ৮০ শতাংশের বেশি এবং লেবানন ৫০ শতাংশের বেশি ইউক্রেন থেকে আমদানি করে। তিনি বলেন যে, অন্য দেশ যেমন তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও ইয়েমেন যারা ইউক্রেনীয় গমের ওপর নির্ভরশীল তাদের অন্য উৎস খুঁজে বের করতে হবে। এর ফলে খাদ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

XS
SM
MD
LG