ইউক্রেনের অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরটি আত্মসমর্পণের রাশিয়ার দাবিটি সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। অপরদিকে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনী আরও গোলাবর্ষণ করেছে।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক রাশিয়ার দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, রাশিয়ার উচিৎ মানবিক করিডোরগুলো খুলে দেওয়া যাতে করে মানুষজন মারিউপোল ছেড়ে চলে যেতে পারে।
ইউক্রেনিয়ান প্রাভাডা নামের সংবাদ সংস্থাটিকে ভেরেশচুক বলেন, “আত্মসমর্পণের, অস্ত্র সমর্পণের জন্য কোন আলাপ হতে পারে না। আমরা ইতোমধ্যেই রাশিয়াকে এ বিষয়ে অবহিত করেছি।”
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ-র তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য, সোমবার ভোরের পূর্ব পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল এবং আত্মসমর্পণের দাবি প্রত্যাখ্যান করাকে “দস্যুদের” পক্ষে থাকার সমতুল্য হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
এদিকে, গতরাতের গোলাবর্ষণ কিয়েভের একটি শপিং সেন্টারে আঘাত হানে, যাতে অন্তত চারজন নিহত হন।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সোমবার কিয়েভের উত্তরে তুমুল লড়াইয়ের তথ্য জানায়। তবে তারা বলে যে, রাজধানীর সম্মুখে রাশিয়ার অগ্রগতিটি থমকে গিয়েছে। তাদের তথ্যমতে, রুশ বাহিনীর সিংহভাগই শহরটির কেন্দ্র থেকে এখনও ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রয়েছে।
রবিবার সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি, সিএনএন এর ফরিদ জাকারিয়াকে বলেন যে, রাশিয়ার সাথে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ার “অর্থ হবে যে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ”।
সিএনএন-কে জেলেন্সকি বলেন যে, রাশিয়ার বাহিনী “আমাদের নির্মূল করতে, আমাদের মেরে ফেলতে” ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে। তবে, তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ইউক্রেন তাদের সার্বভৌমত্ব বা তাদের অখণ্ডতা সমর্পণ করবে না।
জেলেন্সকি বলেন, “রুশরা আমাদের সন্তানদের মেরে ফেলেছে। আপনি এই পরিস্থিতি উল্টোতে পারবেন না। আপনি ইউক্রেনের কাছে তাদের কিছু অঞ্চলকে স্বাধীন রিপাবলিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিকরতে পারেন না। সহজ কথায়, এই ধরণের আপোষগুলো অন্যায়।”