অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করছেন বাংলাদেশের শারমিন আখতার। মার্চ ২২, ২০২২। (ছবি- এএফপি)
নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করছেন বাংলাদেশের শারমিন আখতার। মার্চ ২২, ২০২২। (ছবি- এএফপি)

মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে আগে কখনোই জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে বিশ্বকাপের ম্যাচেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বড় ব্যবধানেই হেরে গেছে নিগার সুলতানা-ফারজানা হক-সালমা খাতুনরা।

প্রথমে ব্যাটিং করে ভারতের গড়া ২২৯ রানের স্কোর তাড়া করতে নেমে ১১৯ রানেই গুটিয়ে গিয়ে ১১০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে এটি ছিল বাংলাদেশের মেয়েদেরদূষণ পঞ্চম ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৪ রানে হারে দল। মঙ্গলবারের ম্যাচে হেরে কার্যত বিশ্বকাপ শেষই হয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েদের।

ভারতের ২২৯ রানের জবাবে কখনোই লড়তে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। উদ্বোধনী ব্যাটার শারমিন আখতার ফেরেন শুরুতেই, দলীয় ১২ রানের মাথায়। ১৫ রানে ফেরেন ফারজানা হক। বাংলাদেশের এই ব্যাটার এদিন দারুণ এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর পাঁচ রান করতে পারলেই নারী ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হাজার রান ছুঁতেন তিনি। কিন্তু তিনি ১১ বল খেলে ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুর্শিদা খাতুন ৫৪ বলে ১৯ রান করে আউট হন পুনম যাদবের বলে হারমানপ্রীত কাউরের ক্যাচ হয়ে। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও এদিন ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। তিনি আউট হন স্নেহ রানার বলে। তার ক্যাচটি নিয়েছেন রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়।

বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে রান তাড়ায় লড়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সালমা খাতুন। লতা মণ্ডলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬২ বলে ৪০ রানের একটা জুটি গড়েছিলেন তিনি। এই জুটিই যা একটু চোখ রাঙিয়েছিল ভারতকে। ৩৪ বলে ৩২ রান করে সালমা ঝুলন গোস্বামীর বলে উইকেটকিপার রিচা ঘোষের হাতে ধরা পড়েন। তার ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি।

লতার ইনিংসটি ছিল ৪৬ বলে ২৪ রানের। পুজা বস্ত্রাকরের বলে হারমানপ্রীতের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তিনি বাউন্ডারি মেরেছেন ২টি।

এই দুজনের পর বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারই ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ দিকে জাহানারা আলম এদিক-ওদিক মেরে কিছু রান তোলেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১১৯ রানেই। ৫৭ বল (৯.৩ ওভার) হাতে রেখেই।

ভারতের সেরা বোলার ছিলেন স্নেহ রানা। তিনি ১০ ওভার বোলিং করে ২ মেডেনে ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। অভিজ্ঞ ঝুলন গোস্বামী নিয়েছেন ১৯ রানে ২টি। দুই উইকেট নিয়েছেন পুজা বস্ত্রাকরও। একটি করে উইকেট নিয়েছেন পুনম যাদব ও রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের স্মৃতি মান্ধানা আর শেফালি ভর্মার উদ্বোধনী জুটি ছিল দুর্দান্ত। পাওয়ার প্লেতে ৫২ রান তুলে তারা ১৫ ওভারের মধ্যেই দলের রান নিয়ে গিয়েছিলেন ৭৪-এ। তবে বাংলাদেশি বোলাররা ম্যাচ

ফিরেছিলেন দারুণভাবেই। ৩০ রানে নাহিদা আক্তারের বলে স্মৃতি মান্ধানা ফারজানা হককে ক্যাচ দেন। ভারতকে বিপর্যয়ে ফেলে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই এরপর আরও দুই উইকেট হারায় ভারত। ঋতু মনি পরপর দুই বলে ফেরান শেফালি ও অধিনায়ক মিতালি রাজকে। শেফালি আউট হন ৪২ রানে, মিতালি রানের খাতা না খুলেই। বিনা উইকেটে ৭৪ থেকে নিমিষেই ভারত পরিণত হয় ৩ উইকেটে ৭৪-এ।

তবে সেই বিপর্যয় সামাল দেন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। তিনি রিচা ঘোষ আর হারমানপ্রীত কাউরের সঙ্গে দুটি জুটি গড়েন। চতুর্থ উইকেটে হারমানপ্রীতের সঙ্গে গড়েন ৬০ বলে ৩৪ রানের জুটি। রিচার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৬৯ বলে ৫৪। ইয়াস্তিকা ৮০ বলে ৫০ করে ঋতু মনির বলে নাহিদা আক্তারের ক্যাচ হন।

ইয়াস্তিকা ভাটিয়া নিজের ইনিংসটা আরও বড় করতে পারতেন। আউট হয়েছেন অবশ্য একটু অদ্ভুতভাবেই। ঋতুর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে।

হারমানপ্রীত ১৪ আর রিচা ফেরেন ২৬ রানে।

ইয়াস্তিকা যখন ফেরেন, তখন রানের জন্য মরিয়া ছিল ভারত। বাংলাদেশি বোলাররা তাদের তেমন সুযোগ দিচ্ছিলেন না। বাংলাদেশি বোলারদের সুন্দর লাইন-লেংথে করা বোলিং তাদের কিছুটা চাপে রেখেছিল। তবে পুজা বস্ত্রাকর আর স্নেহ রানা সেই চাপটা সরিয়ে দেন ভারতের ওপর থেকে। সপ্তম উইকেট জুটিতে এ দুজন ৩৮ বলে ৪৮ রানের এক জুটি গড়ে ভারতের সংগ্রহকে নিয়ে যান ২২৯-এ।

পুজা ৩৩ বলে ৩০ করে অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। স্নেহ ২৩ বলে ২৭ রান করে শেষ ওভারে জাহানারার বলে ফেরেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে নাহিদার বলে এ দুজন তুলে নেন ১৩ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন ঋতু। নাহিদা ২ উইকেট নিয়েছেন ৪২ রানের খরচায়। সালমা ৮ ওভার বোলিং করে ২৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। রুমানা আহমেদও ভালো বোলিং করেছেন, কিন্তু উইকেট পাননি। ৮ ওভারে দিয়েছেন ৩৭। জাহানারা আলম ৮ ওভার বোলিং করে ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট।

This item is part of
XS
SM
MD
LG