অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বলেছে, অভ্যুত্থান বিরোধীদের “নিশ্চিহ্ন” করবে


মিয়ানমারের নেপিডোতে দেশটির ৭৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবসে কুচকাওয়াজের সময় সামরিক পদযাত্রায় সেনা সদস্যরা। ২৭ মার্চ, ২০২২।
মিয়ানমারের নেপিডোতে দেশটির ৭৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবসে কুচকাওয়াজের সময় সামরিক পদযাত্রায় সেনা সদস্যরা। ২৭ মার্চ, ২০২২।

নেপিডো, মিয়ানমার—মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রবিবার (২৭ মার্চ) বলেছেন, জান্তা সরকার অভ্যুত্থান বিরোধীদের "নিশ্চিহ্ন" করবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সামরিক জান্তা গণতন্ত্রপন্থীদের প্রতিবাদের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন চালিয়ে ব্যাপক সামরিক মহড়া প্রদর্শন করেছে।

একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির মতে ভিন্নমতালম্বীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়নে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

দেশজুড়ে “পিপলস ডিফেন্স ফোর্স” যোদ্ধারা জান্তা সেনাদের সঙ্গে নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই যোদ্ধারা মূলত ঘরে তৈরি বা অপূর্ণাঙ্গ (Rudimentary) অস্ত্র ব্যবহার করেন। কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী ওই যোদ্ধাদের হামলা করে ত্বরিত পালিয়ে যাওয়ার কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছে না।

এ ছাড়া থাই ও চীন সীমান্তে আরও শক্তিশালী জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেও সামরিক বাহিনীর লড়াই জোরালো হচ্ছে।

বার্ষিক কুচকাওয়াজে ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র ভর্তি ট্রাক, কামান এবং ঘোড়ার পিঠে সেনাদের প্রদর্শন করা হয়। প্রায় ৮ হাজার সমবেত নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে মিন অং হ্লাইং বলেন, সেনাবাহিনী হাল ছাড়বে না।

যে গোষ্ঠীগুলো সেনা শাসনব্যবস্থা ভেঙ্গে দিতে সংগ্রাম করছে সামরিক বাহিনী তাদের সঙ্গে “আর আলোচনা করবে না...এবং শেষ পর্যন্ত তাদের নিশ্চিহ্ন করবে”, সেনা-নির্মিত রাজধানী নেপিডোতে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের মিছিলের আগে তিনি বলেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট অনুসারে, বাণিজ্যিককেন্দ্র ইয়াঙ্গুনে প্রায় এক ডজন অতর্কিত বিক্ষোভকারীকে আগুন লাগাতে এবং জান্তা-বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

অন্যরা সামাজিক মাধ্যমে শহরের বাসিন্দাদের রবিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে লাইট বন্ধ করে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

রক্তক্ষয়ী দিন

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধের সূচনাকে স্মরণ করা হয়, এবং সাধারণত বিদেশি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে একটি সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী করা হয়।

গত বছর, নতুন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করার সময়, সেনারা অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুতকারী অভ্যুত্থানের প্রতিবাদকারীদের ওপর নৃশংসতা চালায়।

গণতন্ত্রপন্থীদের সমাবেশে সামরিক বাহিনীর সহিংসতাটি ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন এবং একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীর মতে, এ সময় প্রায় ১৬০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

মিয়ানমারের জান্তা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত কেবল কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনই একমাত্র বিদেশি নেতা যিনি দেশটিতে সফর করেছেন।

রবিবার মিন অং হ্লাইং অজ্ঞাত “বিদেশী হানাদারদের” সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলে অভিযুক্ত করেছেন এবং সশস্ত্র বাহিনীকে “অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্রের” বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন যোগ করেছেন, মিয়ানমারে প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ও সহযোগী দেশ রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বছরের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিজ “দেশের সমস্যার” কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি।

ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ বলেন যে, রাশিয়া—অন্য প্রধান মিত্র চীনের সঙ্গে মিলে—মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধবিমান ও সাঁজোয়া যানসহ অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে শুক্রবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।

XS
SM
MD
LG