পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক রবিবার (২৭ মার্চ) তার সঙ্গে সমাবেশে যোগ দিতে রাজধানী ইসলামাবাদে জড়ো হন। ইমরান খান সম্প্রতি পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে চলেছেন। ভোটাভুটি ৪ এপ্রিলের মধ্যে হতে পারে।
প্রাক্তন এই ক্রিকেট তারকাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে আইনসভার নিম্নকক্ষ বা জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তারা ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশের অপশাসন এবং অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনেছে।
ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত রবিবারের বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ইমরান খান দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভোটে জয়ী হওয়ার অঙ্গীকার করেন। যদিও বিশ্লেষকদের মতে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার নেতৃত্বের জন্যে এটা সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একটি “বিদেশি ষড়যন্ত্র” থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
“সরকার পরিবর্তনের প্রয়াসে বিদেশ থেকে পাকিস্তানে তহবিল পাঠানো হচ্ছে। আমাদের নিজেদের লোকদের ব্যবহার করা হচ্ছে”, ইমরান খান অভিযোগ করেছেন।
“আমাদের লিখিতভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তবে আমরা জাতীয় স্বার্থে আপস করব না”, তিনি জনতাকে বলেন। “আমি নিছক অভিযোগ করছি না, আমার কাছে এই চিঠিটি প্রমাণ হিসেবে রয়েছে”, ইমরান খান তার ভাষ্যমতে চিঠির একটি অনুলিপি শ্রোতাদের দেখিয়ে বলেন।
পাকিস্তানি নেতা বলেন যে, কিছু “বিদেশি শক্তি” চায় না যে, তার সরকার একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করুক। যদিও তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
“সময় এখন বদলে গেছে। … আমরা সবাইকে আমাদের বন্ধু বানাব (কিন্তু) কারও দাস হবো না”, ইমরান খান বলেন।
বিরোধী নেতারা এবং স্বাধীন বিশ্লেষকেরা বলেছেন যে, ইমরান খান দেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সমর্থন হারিয়েছেন। যে সমর্থন তার নির্বাচনী বিজয়ের সূচনা করেছিল এবং পরে বিরোধীদের তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনতে উত্সাহিত করেছিল।
পিটিআইয়ের বেশ কিছু আইনপ্রণেতা ভোটের আগে পক্ষ পরিবর্তন করেছেন এবং জোটের অন্য অংশীদারেরাও নীতিগত বিরোধের জন্য আলাদা হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যা সংসদে অল্পসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত ইমরান খান সরকারের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতীয পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লি) সোমবার অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর একটি বিতর্ক শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিতর্ক হাউস স্পিকার ভোটের তারিখ নির্ধারণ করার আগে বেশ কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
এই মাসের শুরুতে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া পর্যন্ত, ৩৪২ সদস্যের পরিষদে ইমরান খানের দলে জোটের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ১৭৯টি আসন রয়েছে।
বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে মাত্র ১৬০টিরও বেশি আসন দখল করে আছে। প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাদের একটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ১৭২ ভোট প্রয়োজন। ২০২৩ সালে পাকিস্তানে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা।
সরকারও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে এবং দলত্যাগী আইনপ্রণেতারা তাদের আসন ধরে রাখার এবং পক্ষ পরিবর্তন করার পরে ভোট দেওয়ার যোগ্য কি না সে বিষয়ে একটি রায় চেয়েছে। পাকিস্তানের দলত্যাগবিষয়ক বা ফ্লোর-ক্রসিং আইনে বলা হয়েছে যে, সংসদ সদস্যরা তাদের দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাদের আসন হারাতে পারেন।
পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে হামলার জন্য মস্কোর সমালোচনা এড়িয়ে গেছে এবং পরিবর্তে যুদ্ধরত উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তান চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনীর গোপন সমর্থনে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থান এবং সম্পতি বিলুপ্ত পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারকে পতনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের ভঙ্গুর সম্পর্ক আরও খারাপ বা উত্তেজনাকর হয়েছে।