অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে মানবিক কারণে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ইউক্রেন নিয়ে জাতিসংঘের দ্বিতীয় প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য না করে মানবিক সমস্যাগুলো তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, “যখন কোনো দেশের বিরুদ্ধে ভোট হয় তখন আমরা বিরত ছিলাম। কিন্তু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় প্রস্তাবে মানবাধিকারের বিষয়টি এলে বাংলাদেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়”।

বুধবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হকের (কিশোরগঞ্জ-৩) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে ও উদ্বাস্তু হচ্ছে”।

শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেন, “মানবাধিকারের বিষয়টি জড়িত থাকায় বাংলাদেশ এটির পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এটি খুব স্পষ্ট এবং এ বিষয়ে কারও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়”।

তিনি বলেন, “ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রথম প্রস্তাব উত্থাপিত হলে বাংলাদেশ দেখতে পায় প্রস্তাবে মানবাধিকারের কোনো ইস্যু নেই, যুদ্ধ বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেই। শুধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার বিষয়টি ছিল। এটি দেখেই আমি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দুঃসময়ে রাশিয়া আমাদের পাশে ছিল এবং আমরা অবশ্যই সে দেশের পাশে আছি। তবে তারা যদি অন্যায় কিছু করে তবে আমরা তা মেনে নেব না”।

তবে তিনি বলেছেন, এ যুদ্ধে কে উসকানি দিচ্ছে সেটা দেখতে হবে।

বিমসটেক নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের জনগণের সুবিধার্থে এই অঞ্চলের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিমসটেক নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক বঙ্গোপসাগর অঞ্চল পুনর্গঠনের জন্য আমাদের সর্বজনীন কৌশল খুঁজে বের করতে হবে”।

শেখ হাসিনা বলেন, “এই সম্মেলন সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার এবং একাধিক চ্যালেঞ্জের অভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে”।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)।

পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছে শ্রীলঙ্কা। এবারের সম্মেলনে একটি স্থিতিস্থাপক অঞ্চল, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও জনগণের সুস্বাস্থের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চলের বিশাল জনসংখ্যা “শুধু চ্যালেঞ্জই নয়, একটি সুযোগও”।

তিনি বলেন, “এই শীর্ষ সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।… নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে বিমসটেকের মতো দেশগুলোর জনগণের জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে উঠতে শুরু করেছে”।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই আঞ্চলিক সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বপ্ন দেখেছিলেন”।

শেখ হাসিনা বিমসটেক নেতাদের কয়েকটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানান। সেগুলো হলো;

ক) জনগণের জন্য দ্রুত বাস্তব সুবিধার লক্ষ্যে বিমসটেক এফটিএ, বিমসটেক কেন্দ্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, শক্তি কেন্দ্র, সংযোগ প্রকল্প, এনার্জি গ্রিড সংযোগ, সাংস্কৃতিক কমিশন ইত্যাদির মতো সমস্ত সম্মত সিদ্ধান্তের অবিলম্বে বাস্তবায়ন ও কার্যকরিকরণ নিশ্চিত করা।

খ) সংস্থার গতি তরান্বিত করতে অন্য সমস্ত আইনি উপকরণ এবং নীতি সংক্রান্ত নথিগুলোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যা ইতিমধ্যেই চলছে কিন্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গ) সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে বিমসটেকের বাইরের প্রাসঙ্গিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং আউটরিচ প্রসারিত করে সৃজনশীলও উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় জড়িত হওয়ার জন্য সংস্থাকে তৈরি করা।

এ সময় গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে সমুন্নত রেখে গত এক দশকে বাংলাদেশ কীভাবে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন করেছে তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে”।

তিনি আরও বলেন, “মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ বিমসটেক সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং সরকার বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

শেখ হাসিনা বিমসটেক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “আমরা বিমসটেক কনভেনশন অন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড কনভেকশনাল ক্রাইমসের (সিটিটিসি) অধীনে কাজ করছি”।

XS
SM
MD
LG