অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাবে—জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার প্রধান


জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ১৫ মে ২০১৮

জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিসলি মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন যে, মাসব্যাপী যুদ্ধ ইউক্রেনকে “বিশ্বের রুটির বাস্কেট থেকে দরিদ্রতম দেশে পরিণত করেছে”। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন যে, বিশ্বব্যাপী ১২৫ মিলিয়ন মানুষকে খাওয়ানোর জন্য যে শস্য ক্রয় করা হয়, তার ৫০ শতাংশ ইউক্রেন থেকে আসে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেনের মতো যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে রেশন কমানো শুরু করতে হবে, যেখানে ইতিমধ্যেই খাদ্য, জ্বালানি এবং পরিবহনের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে খাদ্য বরাদ্দের পরিমাণ অর্ধেকে নামানো হয়েছে।

বিসলে বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া যৌথভাবে বিশ্বের গমের সরবরাহের ৩০ শতাংশ, ২০ শতাংশ ভুট্টা এবং ৭৫-৯০ শতাংশ সূর্যমুখী বীজের তেল উৎপাদন করে। মিসর ও লেবানন তাদের শস্য সরবরাহের ৮০ শতাংশ ইউক্রেন থেকে আমদানি করে।

বিসলে নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন যে, যুদ্ধ কৃষকদের রোপণের মৌসুমে তাদের ফসলের প্রতি যত্ন নেওয়ার পরিবর্তে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের কৃষকেরা বেলারুশ ও রাশিয়া থেকে আসা সারের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে ইউক্রেনের ফসল উৎপাদন অর্ধেক হ্রাস পেতে পারে।

তিনি বলেন, এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে এটি “বিপর্যয়ের ওপরে আরও বিপর্যয়” ডেকে আনবে। যুদ্ধ দুর্ভিক্ষ, দেশগুলোর অস্থিতিশীলতা এবং ব্যাপক অভিবাসনের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সংস্থা হিসেবে আমরা এক ক্ষুধার্ত শিশুর কাছ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে আরেক ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে তুলে দেওয়ার মতো কাজ করতে চাই না”।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট) ওয়েন্ডি শারম্যান এই পরিস্থিতির জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন যে, রুশ বাহিনী কৃষ্ণ সাগরের বন্দর থেকে পণ্য বহনকারী কমপক্ষে তিনটি বেসামরিক জাহাজে বোমা হামলা করেছে। তিনি রাশিয়ার নৌবাহিনীকে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ করতে বন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তবে জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া, খাদ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলো কর্তৃক তার দেশের ওপর আরোপিত “উন্মত্ত নিষেধাজ্ঞা”কে দায়ী করেছেন। নেবেনজিয়া বলেন, রাশিয়ার নৌবাহিনী একটি মানবিক করিডোর স্থাপন করেছে, যাতে জাহাজগুলো ইউক্রেনের বন্দরগুলো ছেড়ে যেতে পারে।

[এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস থেকে নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG