অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত—শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজারো মানুষ


অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের মারিউপোল ও বার্দিয়ানস্ক থেকে একটি বাসে করে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ার একটি শরণার্থী কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১ এপ্রিল ২০২২।

পূর্ব নির্ধারিত মানবিক করিডোর নিয়ে সমস্যার সুরাহা না হলেও কয়েক হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক শুক্রবার (১ এপ্রিল) দেশের কয়েকটি প্রধান জনবহুল এলাকা থেকে নির্মম লড়াই এড়াতে পালিয়ে গেছেন।

ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সহিংসতার কারণে অবরুদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মারিউপোল থেকে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষসহ মোট ৬ হাজার ২৬৬ জন মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” মারিউপোল থেকে আরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শহরটি থেকে অনেক বেসামরিক মানুষ পালাতে সক্ষম হয়েছেন।

রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি শুক্রবার বলেছে, “পরিস্থিতির কারণে সামনে এগোনো সম্ভব না” হওয়ায় বাস এবং উদ্ধার কর্মীদের নিয়ে শহরে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এর আগে শুক্রবার, দোনেৎস্কের আঞ্চলিক গভর্নর পাভলো কিরিলেঙ্কো রাশিয়ার বিরুদ্ধে মানবিক করিডোরের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগ করেছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, যারা পালাতে সক্ষম হয়েছেন তাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে মারিউপোল ত্যাগ করেছেন।

জেলেন্সকির কার্যালয় শুক্রবার বলেছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবে ৮৬ জন ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে কতজন রুশ সেনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রতিঘাত

ইউক্রেনের উত্তরে সামরিক অভিযান হ্রাস করবে বলে এই সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে আক্রমণকারী দেশটি।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো শুক্রবার বলেছেন যে, রাজধানীর উত্তর ও পূর্ব দিকেও ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

তবে ইউক্রেনীয় ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, রাজধানীর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশ কিছু রাশিয়ান বাহিনীকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনারা।

রাশিয়ার অভিযোগ

রাশিয়া অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেনীয় বাহিনী সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রুশ শহর বেলগোরোদে একটি তেল ডিপোতে ইউক্রেনের একটি হেলিকপ্টার আন্তসীমান্ত অতিক্রম করে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি ওলেক্সি ড্যানিলভ জাতীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “কিছু কারণে তারা বলে যে, আমরা এটি করেছি, কিন্তু বাস্তবে এটি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়”।

রাশিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, হামলার ফলে বেশ কয়েক জায়গায় আগুন লেগেছে এবং এতে দুজন আহত হয়েছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আরও সতর্ক করেছেন যে, এই হামলা শান্তি আলোচনার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, শুক্রবার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আবারও শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজ রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা ইউক্রেনের অস্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেছে এবং শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে ইউক্রেনের কাঁধে দোষ চাপানোর মস্কোর প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রুশ বাহিনীর পুনর্বিন্যাস

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ অনুমান করেছে যে, রাশিয়া রাতারাতি কিয়েভ অঞ্চল থেকে সরঞ্জামসহ ৭০০ ইউনিট প্রত্যাহার করেছে এবং সেগুলো বেলারুশে ফিরিয়ে নিয়েছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ওলেকসান্দার গ্রুজেভিচ বলেছেন যে, সরে যাওয়া রুশ বাহিনীর সংখ্যা “বেশ উল্লেখযোগ্য”। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন যে, রাশিয়ার ইউনিটগুলোকে আবারও কর্মক্ষম করে যুদ্ধ অঞ্চলে ফেরত পাঠানো সময়ের ব্যপার মাত্র।

আন্তর্জাতিক চাপ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে এরদোগানের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। তিনি মস্কো ও কিয়েভকে “সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধি নিয়ে কাজ করার” আহ্বান জানিয়েছেন।

এরদোগানের কার্যালয় জানিয়েছে, তুর্কি নেতা পুতিনকে ইউক্রেনের নেতার সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখার জন্য চাপ দিয়েছেন।

অন্যদিকে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং একটি ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের বলেছেন যে, বেইজিং “নিজস্ব উপায়ে” একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসাকে উৎসাহিত করবে।

[এই প্রতিবেদনের জন্য ইউক্রেনের ভিননিতসিয়া থেকে জেমি ডেটমার এবং আনা চেরনিকোভা ও মার্গারেট বেশিরও ভূমিকা রেখেছেন। কিছু তথ্য দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে]

XS
SM
MD
LG