অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইয়েমেনের যুদ্ধবিরতি,সংঘাতের অবসান ঘটাবে; বললেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত


ইয়েমেনের সানায়, দেশব্যাপী দুই মাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে লোকেরা সবজির কেনাকাটা করছে। ২ এপ্রিল, ২০২২।

আম্মান, জর্ডান — যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইয়েমেনে প্রায় সাত বছরের সংঘাতের পর জাতিসংঘের নেতৃত্বে যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে একটি "নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্ত" এবং আশা করা যায়, এতে করে যুদ্ধরত পক্ষগুলি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিধ্বস্ত দেশটিতে একটি স্থায়ী শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

ইয়েমেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টিম লেন্ডারকিং বলেছেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া দুই মাসের এই যুদ্ধবিরতি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির একটি "প্রথম পদক্ষেপ"।

আম্মানে এক সাক্ষাত্কারে লেন্ডারকিং বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিবদমান দলগুলি যদি একসাথে কাজ করতে পারে, তবে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত একটি নতুন ইয়েমেনে রূপ নেবে”।

এদিকে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে কার্যকর দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ইয়েমেনিরা। এর ফলে, আশার আলো দেখতে পাচ্ছে গত ৭ বছর ধরে চলা সংঘাতে বিধ্বস্ত দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা এতদিন ক্ষুধা ও দারিদ্রের শিকার হয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।

কিন্তু শান্তির জন্য অসংখ্য বার যুদ্ধবিরতির ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার পরে, ইয়েমেনিরা সতর্কতার সাথে এই সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে ৩৮ বছর বয়সী ইলেকট্রিশিয়ান মুরাদ আবদুল্লাহ বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি হয়েছে, ভালো; কিন্তু আমি এর সাফল্যে খুব একটা বিশ্বাস করি না। কারণ প্রতিটি পক্ষের একেক রকম ব্যাখ্যা থাকবে, কিভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, এ নিয়ে আলোচনা চলবে এবং শেষ পর্যন্ত এটি ভেস্তে যাবে”।

মুসলিমদের উপবাসের মাস রমজানের শুরুর সাথে সাথে দুই মাসের এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুদ্ধরত পক্ষগুলি এবং ২০১৬ সালের পর এই প্রথম তারা দেশব্যাপী বৈরীতা বন্ধ করতে সম্মত হল।

সরকারি কর্মচারী ইবতিহাল আল-আরাশি যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে অস্থায়ী হিসাবে মনে করছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি, বিগত রমজানের শান্তি প্রচেষ্টার ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই অযৌক্তিক যুদ্ধের অবসান চাই। আমরা একটি নাগরিক রাষ্ট্রের অধীনে প্রকৃত শান্তি চাই, যে শান্তি আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে”।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা (গ্রীনিচ মান সময় বিকেল ৪ টা) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা এবং তা পরে নবায়ন করা হতে পারে।

এই চুক্তির আওতায় আন্তঃসীমান্ত আক্রমণসহ সবরকম আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জ্বালানী আমদানি এবং হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা থেকে কিছু বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের এই সংঘাতকে সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত সৌদি আরব এবং শিয়া অধ্যুষিত ইরানের মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হয়।

ইরান শনিবার বলেছে যে তারা আশা করে, অস্ত্রবিরতির এই চুক্তি এবং সম্পূর্ণ অবরোধ তুলে নেওয়ার এই ঘোষণা, পরবর্তীতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নিতে পারে।

XS
SM
MD
LG