অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে নতুন নির্বাচন হবে; খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি স্পিকার কর্তৃক খারিজ


পাকিস্তানের জাতীয় দিবসে ইসলামাবাদে একটি সামরিক প্যারেডে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ২৩ মার্চ ২০২২।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার সর্বসাম্প্রতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনটি আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথেই আইনমন্ত্রী ফাওয়াদ হুসেইন সংসদের স্পিকারকে অনাস্থা প্রস্তাবটিকে বেআইনী ঘোষণা করতে অনুরোধ জানান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঐ মন্ত্রী সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেন যাতে বলা হয়েছে “রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য সকল নাগরিকের মৌলিক দায়িত্ব”।

এর পরই স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাবটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন এবং তৎক্ষণাৎ বিশেষ অধিবেশনটি মুলতবি করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের প্রচেষ্টায় কোন ধরণের ভূমিকার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে।

অধিবেশন মুলতবি হওয়ার কিছু সময় পরই খান জাতির উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। সেটিতে তিনি জানান যে, তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে সকল প্রাদেশিক ও জাতীয় আইনসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন আহ্বানের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

খানের উপদেশ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি আইনসভাগুলো ভেঙে দেন। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খান তার মন্ত্রীপরিষদও ভেঙে দিয়েছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। খান বিরোধীদলগুলোকেও একটি চিঠি দিয়েছেন। সেটিতে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে তাদের আমন্ত্রণ জানান ইমরান খান।

তবে, বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন করার অঙ্গীকার করেছেন। পিটিশনে খানের কর্মকাণ্ডগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে অনুরোধ করা হবে। বিরোধীদের অভিযোগ যে খান সংবিধান বিকৃত করেছেন এবং তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়া উচিত।

রবিবারের অনাস্থা প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক বাতিল করাটা অসাংবিধানিক ছিল বলে করা বিরোধীদের দাবিটি পর্যালোচনা করতে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি অন্যান্য জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের নিয়ে একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারের বাবর ইফতিখার, ভিওএ-কে বলেন যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টিতে সামরিক বাহিনী কোন বিবৃতি প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে না। রবিবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার বাহিনীর কোন সম্পৃক্ততা না থাকার কথাটিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। বক্তব্যটি এমন বিস্তৃত জল্পনা-কল্পনারও অবসান করে দেয় যে, দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ আসন্ন ছিল।

XS
SM
MD
LG