অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ব্রিটেনের হংকংবিষয়ক প্রতিবেদন বলছে, হংকংয়ের স্বাধীনতা প্রায় নির্বাপিত

হংকং
হংকং

ব্রিটিশ সরকারের ৩১ মার্চের প্রতিবেদন অনুসারে গত দুই বছরে হংকংয়ের স্বাধীনতা প্রায় নির্বাপিত।

১৯৯৭ সালে ব্রিটেন হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ সরকার চীন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার অধীনে এর অগ্রগতি সম্পর্কে বছরে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তার সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে, ব্রিটিশ সরকার বলেছে যে, হংকংয়ে বেইজিংয়ের আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের বাসিন্দাদের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে চলেছে।

এ বিষয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে যেমন এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আবার কয়েকজন হংকংয়ের আইনের শাসনকে বদনাম করার জন্য ব্রিটেনকে দোষারোপ করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে হংকংয়ের জীবনযাত্রার কাঠামোগত কিছু পরিবর্তনের দিকে নির্দেশ করা হয়েছে। এটি গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের পর্যন্ত হংকংয়ের প্রধান রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর দিকে আলোকপাত করে। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে বিচার করা প্রথম ব্যক্তির বিষয়, প্রথম নির্বাচনের মডেল যাতে “কেবলমাত্র দেশপ্রেমিকরাই” নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং সুশীল সমাজের সংগঠন ও স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করা, এসব বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী হংকংয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোসেফ চেং ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, প্রতিবেদনটি হংকংয়ের প্রতি ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

ব্রিটেনভিত্তিক হংকং ওয়াচের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেনেডিক্ট রজার্স সর্বশেষ এই প্রতিবেদনটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। রজার্সকে সম্প্রতি হংকংয়ে ফিরলে জেল খাটতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে হংকং নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন পেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে তাদের হংকং পলিসি অ্যাক্ট রিপোর্ট পেশ করেছে। যাতে ২০২১ সালের মার্চ থেকে গত মাস পর্যন্ত হংকংয়ের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে হংকং ও ম্যাকাওয়ের যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট জেনারেলের বরাতে বলা হয়েছে, চীন “হংকংয়ের অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হংকংয়ের মৌলিক আইন এবং চীন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার অধীনে তার প্রতিশ্রুতির সরাসরি লঙ্ঘন। ঘোষণায় হংকংকে সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল”।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে হংকংয়ে নেওয়া নতুন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে।

হংকং বেইজিংএর প্রতিক্রিয়া

উভয় প্রতিবেদনই হংকং সরকারকে ক্ষুব্ধ করেছে। তারা ১ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রতিবেদনগুলোতে “অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ” করা হয়েছে।

“আমরা এইচকেএসএআর [হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল] সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিদেশি দেশসমূহের ভিত্তিহীন এবং অবাস্তব অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করছি”।

প্রতিবেদনেটির প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং ব্রিটেনকে তার ঔপনিবেশিক মানসিকতা “পরিত্যাগ” করতে বলেছে।

ব্রিটিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হংকংকে সমর্থন করাকে “বিদেশি হস্তক্ষেপ” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।

হোল্ডেন চৌ

হংকংয়ের কঠোর বেইজিংপন্থী আইনপ্রণেতা হোল্ডেন চৌ ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ব্রিটিশ প্রতিবেদনটিতে অনেক মিথ্যা রয়েছে।

“আবারও ব্রিটিশ প্রতিবেদনে হংকং এসএআরের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা আইনকে কলঙ্কিত করেছে। উপরন্তু, আমি আরও হতাশ যে, দুজন ব্রিটিশ বিচারক আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে হংকং কোর্ট অফ ফাইনাল আপিলের অস্থায়ী বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা শুধুমাত্র চীনকে শায়েস্তা করতে যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত অসাধু কার্যকলাপের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সততা ও বিচারিক স্বাধীনতার সঙ্গে আপস করেছেন”, চৌ একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন।

চৌ দুজন ব্রিটিশ বিচারকের কথা উল্লেখ করছেন, যারা গত সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রভাবের প্রতিবাদে হংকংয়ের উচ্চ আদালতে তাদের পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

স্বাক্ষরিত “এক দেশ, দুই নীতি” চুক্তির অধীনে বেইজিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, হংকং ২০৪৭ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারবে।

কিন্তু হংকংয়ের ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর, বেইজিং শহরটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে। অন্য আরও বিধিনিষেধের মধ্যে, আইনটি বিদ্রোহ, আইন লঙ্ঘন এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG