অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অস্ট্রেলিয়া ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ফাইল ছবি।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে অনেক ব্যবসায়ী নেতারা ইতিবাচক নজরে দেখছেন। কিন্তু চুক্তির বাইরে থাকা শিল্প–সংশ্লিষ্টরা ক্যানবেরাকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।

প্রায় এক দশকের বেশি সময় আলোচনার পর গত শনিবার (২ এপ্রিল) এই অন্তর্বর্তী চুক্তি ঘোষণা করা হয়। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া চীনের ওপর তাদের ব্যবসায়িক নির্ভরতা কমাতে এই চুক্তিতে আগ্রহী হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে কিছু অস্ট্রেলিয়ান পণ্যের ওপর বেইজিং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

চীনা কর্তৃপক্ষের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা, ওয়াইন ও আরও কিছু পণ্য। কোভিড-১৯–এর উৎপত্তি সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের ব্যাপারেও অস্ট্রেলিয়া দাবি জানায়। অস্ট্রেলিয়ার এই দাবি আংশিকভাবে চীন-অস্ট্রেলিয়া বিরোধের জন্য দায়ী। এই দাবিকে বেইজিং তাদের ভাইরাস মোকাবিলার প্রক্রিয়ার সমালোচনা হিসেবে মনে করে।

ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বহুমুখী করার একটি প্রচেষ্টা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে তার সরকার ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে ভারত অস্বীকৃতি প্রকাশ করে।

মরিসন বলেন, তার সরকার ভারতের সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ওপর ক্যানবেরার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে সম্মত হওয়ার পর ইউক্রেনের জনগণের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

বাণিজ্য চুক্তিটিতে ভারতে অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানির ওপর ৮৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। কয়লা, পশম ও তামা এই চুক্তির আওতাধীন। ফলে বস্ত্র, চামড়া ও গয়নাসহ অস্ট্রেলিয়ার আমদানিকৃত ৯৫ শতাংশ ভারতীয় পণ্য এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়াকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সমৃদ্ধ করবে।

“আমরা আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছি। অনেক বছর ধরেই আমরা এ নিয়ে কাজ করছিলাম”।

তবে, দুধ, ছোলা ও গরুর মাংসসহ কিছু কৃষি শিল্প এই অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতার বাইরে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিলের সভাপতি রিক গ্লাডিগাউ মনে করেন, একটি সর্বাঙ্গিক বাণিজ্য চুক্তি হলে স্থানীয় দুগ্ধ চাষীরাও উপকৃত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “একদম কিছুই না করার থেকে সামান্য কিছু দিয়ে শুরু করা উত্তম। একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে কেউই সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়তে চায় না। আমি চাই এই চুক্তি থেকে দুই পক্ষই লাভবান হোক, আমাদের দুগ্ধ শিল্পও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হোক”।

উভয় দেশ একটি সম্পূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।

ভারত অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। ২০২০ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পণ্য ও সেবা খাতের দ্বিমুখী বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

XS
SM
MD
LG