অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাংহাইয়ে ২৬ মিলিয়ন লোকের জন্য আবারও লকডাউন বাড়ল


ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) পরা একজন ব্যক্তি একটি আবাসিক এলাকায় পোষা কুকুরকে নিয়ে হাঁটছেন। চীনের সাংহাইয়ে করোনভাইরাস রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য দুই-পর্যায়ের লকডাউনের দ্বিতীয় পর্যায় চালু করা হয়েছে। ৩ এপ্রিল ২০২২

সাংহাইয়ের কর্তৃপক্ষ সোমবার (৪ এপ্রিল) জানিয়েছে, যেহেতু তারা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় শহরটির ২৬ মিলিয়ন বাসিন্দাদের পরীক্ষার একটি অনুশীলনের ফলাফল পর্যালোচনা করছে, সেহেতু শহরটির লকডাউনের সময়সীমা আবার বাড়ানো হয়েছে।

শহরটি প্রাথমিকভাবে ২৮ মার্চ থেকে সাংহাইয়ের পূর্ব জেলাগুলোতে দুই-দফার লকডাউন শুরু করেছিল। পরে পুরো শহরকেই লকডাউনের অধীনে নেওয়া হয়।

এই নিষেধাজ্ঞা, যা চীনের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটির দৈনন্দিন জীবন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে। প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৫টায় (জিএমটি রাত ৯টা) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

শহর কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে বলেছে, “শহরটি লকডাউন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে এবং চিকিৎসা ছাড়া “বাড়িতে অবস্থান করার” নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করবে।

নিষেধাজ্ঞাগুলো কখন উঠবে সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

দেশটি সাম্প্রতিককালের সর্ববৃহৎ এই জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সাংহাইতে ২৬ মিলিয়ন বাসিন্দার কোভিড পরীক্ষা করতে সহায়তা করার জন্য সোমবার হাজার হাজার সামরিক সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছে।

পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) রবিবার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও যৌথ লজিস্টিক সহায়তা বাহিনী থেকে ২ হাজারেরও বেশি চিকিৎসা কর্মীকে সাংহাইতে প্রেরণ করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং ও রাজধানী বেইজিংয়ের মতো প্রদেশ থেকে প্রায় ৩৮ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে সাংহাইতে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমটির মতে, এসব কর্মীদের উচ্চগতির রেল ও বিমানে করে স্যুটকেস নিয়ে ও মাস্ক পরে সাংহাইতে যেতে দেখা দেয়।

উহানে প্রথম কোভিড প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এটি চীনের বৃহত্তম জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে উহানে সর্বপ্রথম নভেল করোনাভাইরাস আবিষ্কৃত হয়।

সাংহাইতে ৩ এপ্রিল ৮ হাজার ৫৮১ জন উপসর্গবিহীন কোভিড রোগী এবং ৪২৫ জন লক্ষণযুক্ত রোগী ধরা পড়েছে৷ রবিবার কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিজেদেরও পরীক্ষা করতে বলেছে।

চীনের একজন প্রবীণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গত মাসে বলেছিলেন, দেশটিতে ১২ হাজার ৪০০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা দিনে ৯০০ মিলিয়ন লোকের পরীক্ষা প্রক্রিয়াকরণ করতে সক্ষম।

জনমনে ক্ষোভ

সাংহাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যেহেতু শহরটি দেশের “ডাইনামিক ক্লিয়ারেন্স” কৌশলের অধীনে চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে কিছু বাসিন্দা জনাকীর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর কেন্দ্রীয় কোয়ারান্টাইন কেন্দ্রের পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে অসুবিধার অভিযোগ করেছেন।

কেউ কেউ নীতিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, যেমন কেন কোভিড-পজিটিভ শিশুদের তাদের বাবা–মার থেকে আলাদা করা হয়েছে। পশ্চিমা কূটনীতিকেরাও চীনকে এটা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনসাধারণের প্রশ্নও বাড়ছে, কেন হালকা বা উপসর্গহীন সংক্রমণের রোগীরা—যেটা কি না সাংহাইয়ের বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে—তারা বাড়িতে কোয়ারান্টাইনে থাকবে পারবেন না।

চাপে কর্মীরা

শহরের স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরাও ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারা শহরের লকডাউন পরিচালনা করতে এবং বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমনে ২৪ ঘন্টা কাজ করছেন।

ক্লান্ত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্লাস্টিকের চেয়ারে বা হাউজিং কম্পাউন্ডের বাইরে ঘাসের ওপর ঘুমানোর বা বাসিন্দাদের মাধ্যমে তিরস্কৃত হওয়ার ছবি এবং ভিডিওগুলো চীনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং “ডাইনামিক ক্লিয়ারেন্স” নীতি অনুসরণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রাদুর্ভাবের গতি রোধ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG