অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রীর জয়


কোস্টারিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী রড্রিগো চ্যাভেস প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনে জয়লাভ করার পর কোস্টারিকার সান হোসে তার সদর দপ্তরে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলছেন। রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২ (কার্লোস গঞ্জালেজ/এপি)

কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য রবিবার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী সাবেক একজন প্রেসিডেন্টকে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনের প্রাথমিক এ ফলাফল ভোটারদের মাঝে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৯৫ শতাংশ নির্বাচনী কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, রোড্রিগো চ্যাভেজ ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তার প্রতিপক্ষ হোসে ফিগারেস ফেরার, যিনি ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, কোস্টারিকার ৪২ শতাংশেরও বেশি উপযুক্ত ভোটার নির্বাচনে ভোট দেননি।

৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফা নির্বাচনে ভোটের ফলাফল আসতে শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে একে একে চ্যাভেজের অপ্রত্যাশিত সাফল্যের সংবাদে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফিগারেস নির্বাচনে তার পরাজয় মেনে নেন।

ফিগারেস ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা তিনবারের প্রেসিডেন্ট হোসে ফিগারেস ফেরেরার মতো কোস্টারিকার নেতৃত্ব দিয়েছেন। চ্যাভেজ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট কার্লোস আলভারদোর প্রশাসনে কিছু সময় কাজ করেছেন এবং তিনি ছিলেন সোশ্যাল ডেমোক্রেট পার্টির প্রতিনিধি।

দুই প্রার্থীই ব্যাপক প্রচারণা চালান এবং অতীতের নানা বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরেন। তথাপি একটি পুনর্নির্বাচনকে উপেক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশ ভোটারের কাছে পেীঁছাতে তারা ব্যর্থ হন। সর্বশেষ মতামত জরিপ রবিবারের নির্বাচনে তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল।

অন্য অনেক ভোটারের মতো তিন থেকে পাঁচ মিলিয়ন উপযুক্ত কোস্টারিকান ভোটার বিকল্প বিষয়ে বিস্মিত হন এবং ফেব্রুয়ারির ভোটের হার ছিল ৬০ শতাংশেরও নিচে।

ভোট শুরুর প্রাক্কালে রাজধানীর সান হোসের কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে সামান্য লাইন থাকলেও অন্য কেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ভোটার শূন্য।

জোয়ান মোরালস, ৬৮ বছর বয়স্ক অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি ভিড় এড়ানোর জন্য আগে ভাগেই ভোট দেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করব সকলেই আজ ভোট দিতে আসবেন। যদিও তারা প্রার্থীদের যথেষ্ট পছন্দ করেন না বলেই আমি জানি, কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদেরকে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্রানসিকো বারাহোনার বলেন, দুই পক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় বহুমুখী ব্যক্তি আক্রমণ প্রাধান্য পেয়েছে, যা কোস্টারিকানদের নির্বাচনী উৎসাহে ভাটা ফেলেছিল।

তিনি বলেন, “নির্বচানী বিতর্কে তারা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয়ে আক্রমণে লিপ্ত হয়েছেন, একে অপরকে অপব্যাখ্যা করেছেন”, “দেশের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তারা নিজেদের প্রস্তাবনা বিস্তারিভাবে তুলে ধরেননি। নির্বাচনী বিতর্ক ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি”।

দুই প্রার্থীর বিষয়ে সাধারণ অসন্তুষ্টির কারণে নির্বাচনে উচ্চহারে ভোটার অনুপস্থিতি হবে বলে বারাহোনা ধারণা করেছিলেন।

বারাহোনা বলেন, “প্রচুর মানুষের জন্য এটা বলা অশ্বস্তির বিষয় ছিল, তারা একজনকে না অন্যজনকে ভোট দিয়েছে” এবং অনেকে বলতে পছন্দ করেছেন যে, তারা কোনো প্রার্থীকেই ভোট দেননি অথবা ভোট দিতে যাননি”।

একটি অবৈধ সামন্তরাল অর্থনৈতিক কাঠামো পরিচালনার অভিযোগে চ্যাভেজের নির্বাচনী প্রচারণা, নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তদন্তের অধীনে রয়েছে। তিনি একটি যৌন হয়রানির স্ক্যান্ডালের শিকার হয়ে বিশ্বব্যাংক থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ের পর ফিগারেস আলকেটেল নামে টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, যারা তখন একটি চুক্তির বিষয়ে ন্যাশনাল ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল, তাদের কাছ থেকে ৯ লাখ ডলার কন্সালটেনসি ফি গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি কখনোই কোনো অপরাধ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হননি এবং কোনো অবৈধ কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এই অঞ্চলে অন্য দেশের তুলনায় কোস্টারিকা যখন আপেক্ষিক অর্থে গণতান্ত্রিক স্থায়িত্ব উপভোগ করছিল, জন দুর্নীতি ও বেকারত্বের স্ক্যান্ডাল জনগণকে তখন হতাশ করে তুলেছিল।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে, আলভারদোর দল নতুন কংগ্রেসে কোনো আসন না পাওয়ায় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা আংশিকভাবে মুছে গিয়েছিল। সে সময়ের প্রথম ভোটকালে দেশটি কোভিড-১৯ ঢেউয়ের শংকায় আক্রান্ত ছিল, কিন্ত তখন থেকেইে সংক্রমণ এবং হাসপাতালে ভর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে শুরু হয়ে যায়।

XS
SM
MD
LG