অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন যুদ্ধ ইয়েমেনের ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও মানবেতর করেছে


অপুষ্টিতে ভুগছে এমন একটি মেয়ে ইয়েমেনের সানার আল-সাবিন হাসপাতালের একটি ফিডিং সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছে৷ ৩ নভেম্বর ২০২০। ফাইল ছবি

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠা এবং রাতের সংবাদে আধিপত্য পেয়ে আসছে। কিন্তু সংঘাতের প্রভাব ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রসারিত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ইয়েমেনেও অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মানবিক সংকটের সম্মুখীন।

মানবিক সহায়তা গ্রুপ মার্সি কর্পসের একজন সিনিয়র নীতি উপদেষ্টা ইয়াসমিন ফারুকি, শুক্রবার (৮ এপ্রিল) তার সাম্প্রতিক ইয়েমেন সফর সম্পর্কে ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সেখানে মানুষের যে দুর্ভোগ দেখেছেন এবং ইউক্রেনের সংকটের ফলে লক্ষাধিক আশাহত ইয়েমেনী যারা ইতিমধ্যে খাদ্য ও জ্বালানির বড় সংকটের সম্মুখীন তাদের দুর্গতি আরও বাড়বে।

যেখানে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর বন্দরগুলো থেকে গমের চালানের অভাবে সরবরাহে টান পড়ায় এই চাপ বিশ্বব্যাপী অনুভুত হচ্ছে, সেখানে ইয়েমেনের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।

সংঘাতের উৎপত্তি

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করতে হবে যে, এটি ইয়েমেনের মানবিক সংকটের প্রথম বছর নয়”, ফারুকি বলেছেন। “বিশ্বজুড়ে অনেকগুলো সংকট উন্মোচিত হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে আমাদের মনোযোগের দাবীদার। তবে ইয়েমেনের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, যেন সেখানে উদ্ভূত সংকটের প্রথম বছর চলছে, অথচ এটি সংকটের অষ্টম বছরে পা দিয়েছে”।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সংঘাত শুরু হয়। তখন হুথি আন্দোলনের সঙ্গে জোটবদ্ধ বিদ্রোহীরা রাজধানী শহর সানা দখল করে এবং প্রেসিডেন্ট আবেদ রাব্বো মনসুর হাদির সরকার এডেনে একটি অস্থায়ী নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) অনুসারে, ইয়েমেনে যুদ্ধের ফলে ২ কোটি ৩৭ লাখ (২৩.৭ মিলিয়ন) মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, যাদের বেশির ভাগেরই খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। চলমান সহিংসতার কারণে লাখ লাখ ইয়েমেনি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যার ফলে এই সাহায্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

“বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট”

সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায়ের শ্রেণীবিভাগ অনুসারে, জাতিসংঘ ও এক ডজনেরও বেশি অন্য বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক সংকলিত সমীক্ষায়, আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, ইয়েমেনে, “৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ (২.২ মিলিয়ন) শিশু, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩৮ হাজার গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রায় ১৩ লাখ (১.৩ মিলিয়ন) গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী ২০২২ সালের মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগবেন বলে অনুমান করা হয়েছে”।

শিশু মৃত্যু

ফারুকি পাহাড়ের চূড়ায় একটি গ্রামে ভ্রমনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাইজ থেকে দুই ঘন্টার পথ, যেখানে পরিবারগুলো নিজেদের খাদ্য সংগ্রহে লড়াই করছে, কারণ সেখানে খাদ্য সংকট তীব্রতর হচ্ছে।

শিশুরা এত দিন ধরে এতটাই ক্ষুধার্ত ছিল যে, তাদের শরীর খাবার ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি যখন তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে তখনো।

XS
SM
MD
LG