অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির প্রদর্শনী বাড়িয়েছে


বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (বাঁয়ে), এয়ার-ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ডিফেন্ডার ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফারাগুট হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী থেকে প্রাপ্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এসেছে। এটি উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সর্বশেষ প্রদর্শনী।

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক বহরটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বের শহর উলসানের পূর্ব দিকে পৌঁছেছে এবং সম্ভবত তিন থেকে পাঁচ দিন সেখানে থাকবে। ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক বহরটি পূর্ব সাগরে রয়েছে। যা জাপান সাগর নামেও পরিচিত। এটি জাপানি বাহিনীর সঙ্গে “আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগীদের আশ্বস্ত করার জন্য” মহড়া পরিচালনা করছে।

২০১৭ সালে যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাপকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল তখন কোরিয়ার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী যাত্রা করেনি।

ওয়াশিংটন এবং পিয়ংইয়ং এখন আরেকটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। গত মাসে দেশটি ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, উত্তর কোরিয়া শিগগিরই আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে বা এমনকি পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে। সেটা সম্ভবত এই সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নেতা কিম ইল সুং-এর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করার মধ্যেই ঘটতে পারে।

এই মাসের শেষের দিকে আরেকটি উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নিয়মিত বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

২০১৮ সাল থেকে দুই মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনীতির সম্ভাবনা বাঁচাতে এবং করোনভাইরাস মহামারির কারণে যৌথ মহড়া কমিয়ে দিয়েছিল।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া বাড়িয়েছে এবং কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে পীত সাগরে (ইয়েলো সি) একটি বিমানবাহী রণতরী মহড়া চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে আক্রমণ করার উপলক্ষ হিসেবে উত্তর কোরিয়া নিয়মিত মহড়া চালায়। বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, এবারও এর থেকে ভিন্ন কিছু হবে না। এই মহড়া উত্তর কোরিয়াকে তার ইতিমধ্যে পরিকল্পিত বড় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ন্যায্যতা দেবে এবং একটি অজুহাত হিসেবে কাজ করবে।

সিউলের আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের গবেষক জে জেমস কিম বলেছেন, “উত্তর কোরিয়া গত বছরের ভালো অংশ থেকে তাদের অস্ত্রের পরীক্ষা ও উন্নয়ন আবারও শুরু করার জন্য একটি ধারাবাহিক পথে রয়েছে”।

কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী জাহাজের উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য পরিবর্তন করবে না। “[কিন্তু] এটা নিয়ে তারা কথা বলবে। এটি তাদের ব্যাখ্যার অংশ”, তিনি বলেন।

XS
SM
MD
LG