অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মধ্য নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গ্রাম লুটপাটের সময় অন্তত ১০০ জন নিহত


নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দিচ্ছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) অঙ্গীকার করেছেন, মধ্য নাইজেরিয়ায় ধারাবাহিক হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

একদল বন্দুকধারী সেখানে একাধিক গ্রামে হামলা ও লুটপাট চালায় বলে একটি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এই বছরের সবচেয়ে খারাপ এই হামলার জন্য ভারী অস্ত্রধারী একটি অপরাধী চক্রকে দায়ী করা হয়েছে।

জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বুহারি অঙ্গীকার করেন, অপরাধীরা “কোনো ছাড় পাবে না”।

“তাদেরকে রেহাই দেওয়া বা ক্ষমা করা উচিত নয়”, তিনি একটি বিবৃতিতে বলেছেন।

প্লাটেয়াউ রাজ্যে রবিবারের হামলা এবং প্রতিবেশী কাদুনা রাজ্যে একটি ট্রেনে অপহরণের ঘটনা আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশের উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য অঞ্চলে তীব্র নিরাপত্তাহীনতার ইঙ্গিত দেয়।

দুই স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার মঙ্গলবার বলেছেন, রবিবার (১০ এপ্রিল) বন্দুকধারীরা প্লাটেয়াউর চারটিরও বেশি গ্রামে হামলা চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস করে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং নিরাপত্তা বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহতের সংখ্যা বা হামলার বিশদ বিবরণ দেয়নি।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের একজন নেতা মালাম উসমান আবদুল সোমবার এএফপিকে জানিয়েছেন, কুকাওয়া গ্রামে ৫৪টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে, ১৬ জন স্থানীয় পাহারাদারকেও শুওয়াকা গ্রামে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ৩০ জন গ্রামবাসীকে গিয়ামবাহুতে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য গ্রামের আশেপাশে আরও চারজনকে পাওয়া গেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় পাহারাদারদের অপারেশনাল কমান্ডার বালা ইয়াহায়া এএফপিকে বলেছেন, তারা তাদের দলের ১৬ সদস্যসহ ১০৭টি লাশ উদ্ধার করেছেন।

অন্য সম্প্রদায়ের নেতারাও একই সংখ্যক নিহতের কথা জানিয়েছেন।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলায় নিহতদের জন্য সোমবার আশেপাশের চারটি গ্রামে গণদাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মৃতের সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে তারা অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় রাজ্যগুলো দীর্ঘকাল ধরে নিরাপত্তা সংকটের জন্য লড়াই করছে। পানি ও জমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ থেকে এই সংকট উদ্ভূত হয়েছে।

বনের ভেতরের আস্তানা থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সামরিক অভিযান সত্ত্বেও, ডাকাত দলের আক্রমণ তীব্র হয়েছে।

নাইজেরিয়ার অতিরিক্ত সম্প্রসারিত নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই দেশটির উত্তর-পূর্বে ১২ বছর ধরে জিহাদি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সেখানে বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশে ইসলামিক স্টেট সক্রিয় রয়েছে।

২০০৯ সালে বোর্নো রাজ্যে বিস্ফোরণের পর থেকে এই সংঘাতে ৪০ হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২২ লাখ (২.২ মিলিয়ন) মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

XS
SM
MD
LG