অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের ছয় আইনপ্রণেতা বিতর্কিত সফরকালে তাইওয়ানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন

তাইওয়ানের তাইপেইতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনকে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন আইনপ্রণেতা এবং অন্য প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। হ্যান্ডআউট ছবিটি ১৫ এপ্রিল ২০২২-এ প্রচারিত।
তাইওয়ানের তাইপেইতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনকে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন আইনপ্রণেতা এবং অন্য প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। হ্যান্ডআউট ছবিটি ১৫ এপ্রিল ২০২২-এ প্রচারিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন আইন প্রণেতা শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) তাইওয়ান সফর করেছেন। তারা দ্বীপটির সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বেইজিং প্রণীত “একক চীন”–এর অংশ হিসেবে তাইওয়ানের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগে চীনা সরকারের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

এই সফরের প্রতি চীনা সরকার কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন সিনেটর এবং একজন প্রতিনিধিকে তাইওয়ান সফর না করার অনুরোধ করেছিল। এই সফরের নিন্দা জানিয়ে সরকারি বিবৃতি ছাড়াও, বেইজিং সরকার তাইওয়ানের কাছাকাছি জলসীমায় বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়ার নির্দেশ দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ সতর্কীকরণের টহল বিমান পাঠানো এবং সামুদ্রিক হামলার মহড়া পরিচালনা করা।

পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ কর্নেল শি ই এক বিবৃতিতে বলেছেন, “যারা আগুন নিয়ে খেলবে তারা নিজেরাই আগুনে পুড়বে। সেনারা সর্বদা উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং দৃঢ়ভাবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে”।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনডেজ; দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান নেতা সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম; উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান নেতা সিনেটর রিচার্ড বার; ওহিওর রিপাবলিকান সিনেটর রবার্ট পোর্টম্যান; নেব্রাস্কা রিপাবলিকান সেনেটর বেন সাসে এবং টেক্সাসের রিপাবলিকান নেতা ও প্রতিনিধি পরিষদের রনি জ্যাকসন।

অন্য বিষয়ের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ইউক্রেনে হামলাকারী রাশিয়ার প্রতি ক্রমাগত সমর্থনের কারণে চীনের সমালোচনা করেন। তারা রাশিয়ার ক্রিয়াকলাপ এবং চীন বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ানের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে এমন সম্ভাবনার মধ্যেও তুলনা টানেন।

সবচেয়ে আক্রমনাত্মক মন্তব্য করেন গ্রাহাম। তিনি বলেন, “আপনাদের এবং তাইওয়ানের জনগণের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি, আমরা চীনকে সারা বিশ্বে তার কার্যকলাপের জন্য আরও বেশি মূল্য দিতে বাধ্য করব। [রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির] পুতিনের প্রতি সমর্থনের মুল্য দিতে হবে। কমিউনিস্ট চীনের মাধ্যমে আপনাদের অর্থনীতি এবং জনগণের ওপর অব্যহত সাইবার আক্রমণের মূল্য দিতে হবে তাদের”।

চীন আক্রমণ করলে “সকল উপায়” প্রস্তুত

তাইওয়ান আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন গ্রাহাম।

বেইজিংয়ের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তায় তিনি বলেন, “কমিউনিস্ট চীনা পার্টির উদ্দেশে বলছিঃ আমরা সংঘাত চাই না। তবে আমরা আমাদের মূল্যবোধের জন্য লড়াই করব”।

তাইওয়ান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয় এবং তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য চীনের জোরাজুরি সত্ত্বেও মেনেনডেজ ক্রমাগত তাইওয়ানকে “একটি দেশ” হিসেবে উল্লেখ করছিলেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের সফরের কঠোর জবাব দিয়েছে চীন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চীন দৃঢ়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ান অঞ্চলের মধ্যে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের বিরোধিতা করে”।

ঝাও ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য চীনা পদক্ষেপের মধ্যে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা যে তুলনা করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, “জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার” জন্য এই ধরনের তুলনা টানা হয়েছে।

জো বাইডেন ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, চীনা হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য দ্বীপের সক্ষমতা বাড়াতে তার প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে তিনটি পৃথক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

তবে তাইওয়ানিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

তাইওয়ানে চীন হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বিষয়ে জনসাধারণের প্রত্যাশা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। গত মাসে তাইওয়ানিজ পাবলিক অপিনিয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি জরিপে মাত্র ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ তাইওয়ানিজ বলেছে, তারা বিশ্বাস করে যে, চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। মাত্র ছয় মাস আগে যার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা তাইওয়ানের বিষয়ে তাদের কথা ও কর্মে আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকেন। তারা কংগ্রেসে কয়েক ডজন আইন প্রণয়ন প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে চীনা আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য শক্তি প্রয়োগ করার অনুমোদনও রয়েছে। তবে আমেরিকান জনগণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কতটা সম্মত তা স্পষ্ট নয়।

XS
SM
MD
LG