অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা তালিবান নেতাদের মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি করেছে


কাবুলের একটি স্কুলে মেয়েরা ক্লাস করছে। মেয়েদের শিক্ষার ওপর তালিবানের নিষেধাজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অতি-রক্ষণশীলরা ইসলামপন্থী দলটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং একটি ক্ষমতার লড়াই চলছে, যেটা আফগানিস্তানের মরিয়া জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা অনুদান ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়েদের শিক্ষার ওপর তালিবানের নিষেধাজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অতি-রক্ষণশীলরা ইসলামপন্থী দলটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং একটি ক্ষমতার লড়াই চলছে, যেটা আফগানিস্তানের মরিয়া জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা অনুদানকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং এমনকি তালিবান আন্দোলনের অনেককে এই সিদ্ধান্ত বেশ হতবাক করেছে।

তালিবানের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এএফপিকে বলেছেন, “আদেশটি বিপত্তিকর ছিল”। “সর্বোচ্চ নেতা নিজেই হস্তক্ষেপ করেছেন”।

তালিবান যে কর্মকর্তারা এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

অগাস্টে তালিবানের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথমবারের মতো আবার খোলার কয়েক ঘণ্টা পর গত মাসে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তালিবানের ডি ফ্যাক্টো সরকারের কেন্দ্র কান্দাহার শহরে দলটির নেতাদের গোপন বৈঠকের পর এই অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তটি আসে।

কর্মকর্তারা কখনোই এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেনি। তবে তারা বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষা অবশ্যই “ইসলামী নীতি” অনুসারে হতে হবে। তবে একজন জ্যেষ্ঠ তালিবান কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন যে, সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং অন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা “এই ইস্যুতে অতি-রক্ষণশীল” ছিলেন এবং তারাই আলোচনায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

কান্দাহারের প্রভাব পুনর্বহাল করা

আফগানিস্তান বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন এমন একজন লন্ডনভিত্তিক গবেষক অ্যাশলে জ্যাকসন বলেছেন, আলেমরা সরকারি সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করছেন এবং মেয়েদের শিক্ষার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধিতাকে তারা তাদের প্রভাব পুনরুদ্ধারের একটি উপায় বলে মনে করছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ তালিবান সদস্য বলেছেন যে, কট্টরপন্থীরা প্রত্যন্ত রক্ষণশীল গ্রামাঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার যোদ্ধাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। “তাদের মতে একজন নারীর পক্ষে বাড়ি থেকে বের হওয়াও অনৈতিক। সুতরাং, তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অর্থ কী দাঁড়াবে কল্পনা করুন”, তিনি বলেছিলেন।

তালিবান এই সদস্য বলেন যে, আখুন্দজাদা “আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার” বিরুদ্ধে, কারণ তিনি এটিকে প্রাক্তন পশ্চিমা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও আশরাফ ঘানি কর্তৃক প্রণীত বলে বিশ্বাস করেন।

“এটি তার বিশ্বদর্শন”

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মাধ্যমে ২০০১ সালে কট্টরপন্থীদের ক্ষমতাচ্যুত করে প্রতিষ্ঠিত সরকারের অবসান ঘটার পর তালিবান গত বছর ক্ষমতায় ফিরে আসে।

যদিও দেশটি সামাজিকভাবে রক্ষণশীল তবে তালিবানের দুটি শাসনামলের মাঝখানের ২০ বছরে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার এবং নারীদের সমস্ত বিভাগে চাকরি খোঁজার অনুমতি দেওয়া হয়।

বিদেশি সহায়তায় বাধা

পাকিস্তানের একটি তালিবান সূত্র, এই বিষয়ে নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি বলেছে যে, এতে তাদের কার্যক্রম ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে বিতর্ক আছে... তবে আমরা আমাদের ত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি”।

তবুও, বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য এবং আফগানিস্তানের মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা সংগ্রহে তালিবান প্রচেষ্টার জন্য একটি আঘাত।

আইসিজির স্মিথ বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা তালিবানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছাকে হ্রাস করে। “তালিবান সরকারের কার সঙ্গে তারা আলোচনা করবে তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে”।

XS
SM
MD
LG