অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানের বিরুদ্ধে কিছু করলে ইসরাইলের কেন্দ্রে আঘাত হানবে তেহরান—রাইসি


ইরানের তেহরানে জাতীয় সেনা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সময় যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে। ১৮ এপ্রিল ২০২২। ইরানি সেনাবাহিনী/ডব্লিউএএনএ (ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি)/হ্যান্ডআউট। রয়টার্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সোমবার (১৮ এপ্রিল) এক সামরিক কুচকাওয়াজে বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে “সামান্যতম নড়াচড়া করলে” দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলের কেন্দ্রে আঘাত হানবে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তেহরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে স্থবির আলোচনার মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার ইসরাইলে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দেশটি বলেছে যে, তারা ইরানের কোনো পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে একমত হবে না এবং শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারে।

“ইহুদিবাদী শাসকদের [ইসরাইল], জানা উচিত যে ... তারা যদি আমাদের জাতির বিরুদ্ধে সামান্যতম পদক্ষেপ নেন, তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইহুদিবাদী দেশের একদম কেন্দ্রে আঘাত হানবে”। জাতীয় সেনা দিবস উপলক্ষে এক সামরিক কুচকাওয়াজে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তৃতায় রাইসি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তিটি পুনরুদ্ধারে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরোক্ষ আলোচনায় নিয়োজিত রয়েছে। ওয়াশিংটন ২০১৮ সালে নিজেদের এই চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় এবং তেহরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

কিন্তু তেহরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থার তালিকা থেকে সরাবে কি না সে বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় গত মাসে আলোচনা স্থগিত করা হয়েছিল।

ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে চুক্তির সীমা লঙ্ঘন করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চুক্তির অধীনে ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির বিনিময়ে তার পারমাণবিক পরীক্ষা সীমিত রেখেছিল।

ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে দেশটির কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্থাপনায় বেশ কয়েকটি হামলা এবং ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানিদের হত্যার অভিযোগ করেছে।

ইসরাইল এই অভিযোগ অস্বীকার বা নিশ্চিত করেনি।

ইসরাইল ইরানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বলেছে যে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে “একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র” হিসেবে গ্রহণ করবে না।

কুচকাওয়াজে মিসাইল, সেনা বহনকারী সাঁজোয়া যান, মনুষ্যবিহীন নজরদারি বিমান এবং ছোট সাবমেরিনগুলোর প্রদর্শন হয়।

রাইসি বলেন, “আমাদের কৌশল প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে এবং এটি কোনো অপরাধ নয়”। "ইরানের সেনাবাহিনী নিজেদের ক্ষমতায়নের জন্য নিষেধাজ্ঞার সুযোগকে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করেছে এবং আমাদের সামরিক শিল্প এখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে”, তিনি বলেন।

XS
SM
MD
LG