অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ বাড়ছে বলে জানাল জাতিসংঘ

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ চলাকালে ৬ মার্চে, ৫৮ বছর বয়সী মিখাইলো রোমানিউক তার বাইসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার আত্মীয়রা ১৯ এপ্রিল ২০২২ এ তার কফিনটিকে বুচার এক কবরস্থানে সমাহিত করছেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ চলাকালে ৬ মার্চে, ৫৮ বছর বয়সী মিখাইলো রোমানিউক তার বাইসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার আত্মীয়রা ১৯ এপ্রিল ২০২২ এ তার কফিনটিকে বুচার এক কবরস্থানে সমাহিত করছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, মিশেল ব্যাচেলে শুক্রবার জানান যে, ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ বেড়েই চলেছে। এর বেশিরভাগই রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে।

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন বুচা সহ কিয়েভ, চেরনিহিভ, খারকিভ, এবং সুমি অঞ্চলের শহরগুলোতে বেসামরিক মানুষজনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও নথিবদ্ধ করে আসছে। ঐ সকল জায়গা ফেব্রুয়ারির শেষে এবং মার্চের শুরুতে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ব্যাচেলে বলেন যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গোলা ও বোমাবর্ষণ করেছে। তার মুখপাত্র, রাভিনা শ্যামদাসানি বলেন যে, তারা বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। এ ধরণের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।

তিনি জানান যে, পর্যবেক্ষণ মিশন ৫,২৬০ জন বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা যাচাই করেছে। এর মধ্যে ২,৩৪৫ জন নিহত এবং ২,৯১৯ জন আহত ব্যক্তি রয়েছেন। ৯২ শতাংশেরও বেশি ঘটনা সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এবং বাকিগুলো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ডনেটস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে সংঘটিত হয়।

শ্যামদাসানি বলেন যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে হত্যাসহ সুরক্ষিত মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক মানবতা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

অপরদিকে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কর্তৃক গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও প্রতীয়মান হয়েছে বলে, পর্যবেক্ষণ মিশনটি নথিবদ্ধ করেছে। এমন অস্ত্র বেসামরিক মানুষজনকে নির্বিচারে হত্যা ও পঙ্গু করে। আন্তর্জাতিক আইনে এমন অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে।

শ্যামদাসানি বলেন যে, হাইকমিশনার এই অর্থহীন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান করছেন। কিন্তু যেহেতু সহিংসতা হ্রাসের কোন চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না, তাই তিনি বলেন যে, হাইকমিশনার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবতা ও মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করছেন।

হাইকমিশনার ব্যাচেলে, পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবতা আইনের সকল লঙ্ঘন তদন্ত করতে আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি অপরাধীদের বিচার ও জবাবদিহিতার সম্মুখীন করারও আহ্বান জানান। এগুলো যুদ্ধের নিয়মনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী তাদের দায়িত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।


This item is part of
XS
SM
MD
LG