অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দ্বিগুণ হতে পারে


বাংলাদেশের ২০২২-২৩ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দ্বিগুণ করে ১৮ হাজার কোটি টাকা করার কথা ভাবছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে সামগ্রিক ভর্তুকি এবং প্রণোদনা বরাদ্দ ১৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বেড়ে আনুমানিক ৫৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা হবে।

চলতি বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। এ বছর এ খাতে ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হচ্ছে। তবে সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

প্রতি বছর বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাড়ছে। ফলে বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে। যেমন ২০২২ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ১২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে তা ৫৩ হাজার ২৮২ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বাজেট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিরূপ প্রভাবের কারণে আসন্ন বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তায় বরাদ্দ আনুমানিক ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ২৭ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বেড়ে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ অর্থবছরের বাজেটে এই তিনটি খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় ৬ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ; এই তিনটি খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে প্রণোদনা হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রণোদনা বাড়ছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে এ খাতে মোট ব্যয় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এলএনজি আমদানি ও প্রণোদনা প্যাকেজে ভর্তুকি পরিশোধের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনার বরাদ্দ ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে এসব খাতে ভর্তুকি ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের দাম সমন্বয় না হলেই ভর্তুকি কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের দাম বাড়ানো হলে, ভর্তুকির পরিমাণও কমতে পারে।

এ ছাড়াও আসন্ন বাজেটে খাদ্য খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ জানায়, চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ লাখ ৫৬ হাজার টন। এর বিপরীতে প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩২ দশমিক ৭৫ লাখ টন।

XS
SM
MD
LG