অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আজারবাইজানে খাদ্য নিরাপত্তার উপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন বিশ্লেষকরা

রাশিয়ার সাইবেরিয়ান শহর ক্রাসনোয়ার্স্ক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে তালনিকি গ্রামের কাছে সোলগনস্কয় কৃষি কোম্পানির একটি গমের ক্ষেত। (ফাইল) ২৭ আগস্ট, ২০১৫।
রাশিয়ার সাইবেরিয়ান শহর ক্রাসনোয়ার্স্ক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে তালনিকি গ্রামের কাছে সোলগনস্কয় কৃষি কোম্পানির একটি গমের ক্ষেত। (ফাইল) ২৭ আগস্ট, ২০১৫।

বাকু, আজারবাইজান — ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের পটভূমিতে, বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান খাদ্য ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলবে। কারণ আজারবাইজানের খাদ্য সরবরাহ মূলত রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে আমদানির উপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল।

আজারবাইজান ২০২১ সালে ইউক্রেন থেকে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার এবং রাশিয়া থেকে ২৭৪ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। আজারবাইজান এবং ইউক্রেনের মধ্যে লেনদেন করা প্রধান প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে তামাক, খাদ্যদ্রব্য এবং ওষুধপত্র।

আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের রাজ্য পরিসংখ্যান কমিটির তথ্য মতে, গত বছর আজারবাইজান রাশিয়া থেকে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের গম আমদানি করেছে। সেইসাথে ১০ কোটি ডলার মূল্যের কাঠের উপকরণ এবং ৪ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার মূল্যের উদ্ভিজ্জ তেলও রয়েছে।

এই তিনটি পণ্য রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ২০% এরও বেশি।

কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা একমত যে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের সময় মৌলিক খাদ্যের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

আজারবাইজানের প্রধানমন্ত্রী আলি আসাদভ গত ১২ এপ্রিল এক সরকারি সভায় বলেছেন, গত তিন মাসে তাঁর দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৮% বেড়েছে।

ওই সভায় আসাদভ বলেন, “গত তিন মাসে আমাদের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১২.২%। আর স্ফীত খাদ্য পণ্য মূল্যস্ফীতির ৬০% এর বেশি”।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া দ্বন্দ্বের ফলে জিনিষপত্রের, বিশেষ করে খাদ্য শস্যের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, “বিশ্বে শস্য উৎপাদনে ইউক্রেন ও রাশিয়ার অগ্রণী ভূমিকার প্রেক্ষিতে, এবং এই বছর ইউক্রেন যে সমস্যার মুখোমুখি হবে, তাতে করে আমরা এই সব পণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছি”।

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ মহররামলির মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ আজারবাইজানের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী গম আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়া বৃহত্তম উৎস, দেশগুলি রাশিয়া থেকে সামগ্রিকভাবে ৯০% গম আমদানি করে থাকে।

মহররামলি বলেন, “আজারবাইজান প্রতি বছর রাশিয়া থেকে ১৩.৫ লাখ টন গম আমদানি করে। এছাড়া আমরা অন্যান্য পণ্য যেমন মাখন এবং দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করি, প্রধানত ইউক্রেন থেকে”।

মহররমলি আরও জানান, সম্প্রতি দেশে খাবারের দাম বেড়েছে। সরকার নিবৃত্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

আজারবাইজানের সংসদ সদস্য রুফাত গুলিয়েভ ভিওএ-কে বলেছেন, খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় আজারবাইজানীয় সরকার বিকল্প খাদ্যের উৎস অনুসন্ধান করছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG