অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে ইউরোপে নতুন প্রভাব অর্জন করেছেন ফ্রান্সের ম্যাঁক্রো


ফাইল ছবি: ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের সময় জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের (ছবিতে নেই) সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাকিয়ে আছেন। ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের মতো সংযম বা মন দিয়ে অন্যদের কথা শোনার জন্য সুবিদিত নন তিনি।

কিন্তু রবিবার (২৪ এপ্রিল) পুনর্নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের সুত্র ধরে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ইইউ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপটে অনেকে বলছেন, তার জন্য মার্কেলের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী ডি ফ্যাক্টো নেতা হওয়ার পথ প্রসারিত হলো।

প্যারিসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জ্যাক ডেলরস ইনস্টিটিউটের পরিচালক সেবাস্তিয়ান মেইলার্ড বলেন, “মার্কেল জরুরি মুহূর্তের কাণ্ডারি ছিলেন, কিন্তু তার কোনো সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল না”। “ম্যাক্রোঁর স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যে, তিনি কী ধরনের ইউরোপীয় একীকরণ চান”।

আশ্চর্যের বিষয় নয়, বেশির ভাগ ইউরোপীয় নেতারা ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেনের বিরুদ্ধে ম্যাক্রোঁর জয়কে অভিবাদন জানিয়েছেন। ল্য পেন ২৭ সদস্যের জোটকে ব্যাপকভাবে সংস্কার এবং এর কার্যকারিতা হ্রাসের কথা বলেছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় এবং শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ তার লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। কত দূর সাহায্য করবে তা শুধুমাত্র অন্য ইইউ নেতাদের সম্মতির ওপরেই নির্ভর করছে না, বরং জুনের সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলসহ সামনে ফ্রান্সে কী ঘটবে তার ওপরও নির্ভর করছে।

উপরন্তু, পরের দুই মাস, ফ্রান্স যখন ইইউর আবর্তিত প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ করবে, সেটি হবে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা।

তিনটি ক্ষেত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্লেষক মেইলার্ড বলেছেন: মস্কোর বিরুদ্ধে ইইউর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ জার্মানির জন্য ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য একটি বড় বাধা, যেহেতু দেশটি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং রাশিয়ার ঘোষণা, যে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করবে, এরপরে সম্ভবত পোল্যান্ডের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী ইউরোপীয় প্রতিরক্ষার জন্য ম্যাক্রোঁর আহ্বানে এগিয়ে যাওয়া কঠিন; এবং ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

ইউরোপমুখী হাওয়া

ইউরোপ নিয়ে সন্দেহবাদী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ সংকট এবং এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ যা ব্রাসেলস সম্পর্কে ইউরোপীয় নাগরিকদের অনুভূতিকে পুনর্নির্মাণ করতে সাহায্য করেছে, এরকম একাধিক চ্যালঞ্জের কারণে, পালে হাওয়া পেতে পারেন ম্যাক্রোঁ।

ঘরোয়া উদ্বেগের মাধ্যমে প্রভাবিত ফরাসি নির্বাচনে ইইউ বড় ভূমিকা রেখেছে। ম্যাক্রোঁ নিজেই ল্য পেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনকে ইউরোপে “গণভোট” আখ্যা দিয়েছেন।

যৌথ সিদ্ধান্ত নেবেন কি না

কেউ কেউ বলেন, ম্যাক্রোঁর বড় চ্যালেঞ্জ নেতৃত্ব নাও হতে পারে, বরং মার্কেল যে ধরনের ঐকমত্য-নির্মাণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, ম্যাক্রোঁ সেরকম ভালো দলীয় প্রভাবক হতে পারবেন কি না, সেটা হতে পারে। সমালোচকদের মতে, শুধু ইউরোপের জন্য নয়, ফ্রান্সের জন্যও তিনি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি শুনতে এবং গ্রহণ করতে চান না।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাথিলদা সিউলা আরেকটি দিক উল্লেখ করেছেন।

“আমি মনে করি ইউরোপের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা তার জন্য একটি ভুল হবে”, তিনি বলেছিলেন।

“ফ্রান্স জোট গঠনে সেরা নয়, তবে ফ্রান্সের উচিত জোট গঠনের চেষ্টা করা”।

কিন্তু ম্যাক্রোঁর দীর্ঘদিনের “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”—ইইউর অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং সামরিক স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করা—এক সময়ের সংশয়বাদীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি বিশেষভাবে সত্য। বিশেষ করে জার্মানি তার সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে।

তবে জুনে ফ্রান্সের আইনসভা নির্বাচন নির্ধারণ করতে পারে ম্যাক্রোঁ তার ইউরোপীয় অ্যাজেন্ডা চালিয়ে যেতে কতটা সুযোগ পাবেন।

XS
SM
MD
LG