অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকা-দিল্লির ক্রমবর্ধমান মিথষ্ক্রিয়া আস্থার উত্তম প্রতিফলন: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্‌দুল মোমেন
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্‌দুল মোমেন

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে, ‘নিয়মিত, অনানুষ্ঠানিক ও আন্তরিক’ আলোচনা আস্থা ও বিশ্বাসের খুব ভালো প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “দুই দেশের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ আছে।”

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল), বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার, ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে একটি যৌথ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আমার আজকের সফরের লক্ষ্য, আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্পৃক্ততাকে আরও জোরদার করা। এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্তি ও চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।”

জয়শঙ্কর বলেন, করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা (বাংলাদেশ-ভারত) নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি হয়েছে।

২০২১ সালের মার্চে শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের যোগাযোগ করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং আমরা ঈদের পরপরই আন্তঃসীমান্ত বাস ও ট্রেন সার্ভিস আবারও চালু করার দিকে নজর দিচ্ছি।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে বেশ কিছু বড় সমস্যার সমাধান করেছে।

তিনি বলেন, “দুই পক্ষই আবারও অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেছে। কারণ, আমাদের একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আছে।”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন জানিয়ে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা তার (শেখ হাসিনার) সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের অপেক্ষায় রয়েছি।”

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গত বছরের মার্চ মাসে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন।

এছাড়া, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, ভারতের প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ অতিথি হিসেবে গত বছরের ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেন।

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে, জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) পরবর্তী দফার বৈঠকটি সম্ভবত আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এই জেসিসির সহ-সভাপতিত্ব করবেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় এই বৈঠকের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোমেন বলেন,“জেসিসির আগে কিছু বৈঠক করা দরকার।”

আগামী জেসিসি বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন,“বৈঠকে বাংলাদেশ অমীমাংসিত সব বিষয় উত্থাপন করবে।”

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব সময়ই এসব ইস্যু তুলেছে এবং তা পুনরাবৃত্তি করবে।”

২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জেসিসি’র ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ঢাকায় এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সভাটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জয়শঙ্কর জানান, করোনা তাদের (ভারতকে) শিখিয়েছে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং মূল্য শৃঙ্খল থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি পারস্পরিক যোগাযোগের স্বার্থে নেয়া অনেকগুলো প্রকল্পের কমিশনিং খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, “ভারত এনার্জি সেক্টরে শক্তিশালী উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সংযোগের জন্য উন্মুখ। কারণ, তারা এই ক্ষেত্রে ‘অগ্রসরমাণ অংশীদারিত্ব’ দেখতে চায়। “

সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো খুবই দীর্ঘ আলোচনা।”

বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যটিালিয়নের (র‌্যাব) ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ভারত কোনো ভূমিকা রাখছে কি না সে বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে, জয়শঙ্কর বলেন, “আমি মনে করি এই প্রশ্নটা আপনাদের ড. মোমেনকে জিজ্ঞেস করতে হবে, আমাকে নয়।”

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) ঘাঁটিতে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে স্বাগত জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্‌দুল মোমেন।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাতের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর।

মোমেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সম্মানে একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করেন।

বাংলাদেশ সফর শেষ করে, শুক্রবার ২ে৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে, ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

XS
SM
MD
LG