অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে চীনের কর্মীদের উপর হামলা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ


পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন পরিচালিত কনফিউসিয়াস ইন্সটিটিউটের কাছে এক ভ্যানে আত্মঘাতী বোমা হামলার একদিন পর, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যাচ্ছে। ২৭ এপ্রিল ২০২২।

এই সপ্তাহে করাচীতে হওয়া আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানের নতুন নেতাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। হামলায় চীনের তিন নাগরিক নিহত হন। হামলার ঘটনা এমন সময়ে হল যখন কিনা পাকিস্তানের নেতারা খুব সম্ভবত চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন।

বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) নামের এক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায় যে, এক আত্মঘাতী বোমাহামলাকারী নারী হামলাটি চালায়। পাকিস্তানের সরকার অনতিবিলম্বে ঘোষণা দেয় যে, তারা দায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনবে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক টুইটার বার্তায় লিখেন, “এই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমি তীব্র নিন্দা জানাই। অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

তবে, পাকিস্তান এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনের কর্মীদের উপর বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গীদের হামলা থামানোর চেষ্টা করে আসছে। বেলুচিস্তানে উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত পাকিস্তান ও চীনের কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ঐ জঙ্গীরা। ঐ কর্মীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষজনকে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে সম্পদ তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে জঙ্গীরা। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএ-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে।

পাকিস্তানে চীনের বিনিয়োগ যতই বেড়েছে, ততই বেইজিংয়ের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) তৈরির পর থেকে। সিপিইসি’র ফলে পাকিস্তানের বন্দরগুলো চীনের সড়কপথের সাথে যুক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে, শরীফের প্রশাসন চীন সরকারের সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবে। তারা উল্লেখ করেন যে, নওয়াজ শরীফের শাসনামলেই সিপিইসি দৃঢ়তর হয়েছিল। নওয়াজ শরীফ ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের ভাই।

XS
SM
MD
LG