অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মুহিতের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর শোক


বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ভাষাসৈনিক আবুল মাল আবদুল মুহিত
বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ভাষাসৈনিক আবুল মাল আবদুল মুহিত

বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও ভাষাসৈনিক আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান মুহিত।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য মুহিত ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে চাকরিরত অবস্থায় পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রথম সরকারে যোগদান করেন”।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সফল এ অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ তার স্ব কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন”।

তিনি মুহিতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া পৃথক পৃথকভাবে মুহিতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ভাই আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক শোক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আব্দুল মোমেন তার ভাই মুহিতের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মানবিক গুণাবলী, দেশপ্রেম এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের বিদেহী আত্মার চিরন্তন মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মুস্তফা কামাল বলেন, “মুহিত স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন এবং তিনি আমাদের অভিভাবকদের একজন ছিলেন।
তিনি একাধারে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক ও ভাষাবিদ ছিলেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন”।

মুস্তফা কামাল বলেন, “তার মৃত্যুতে জাতি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে”।

পৃথক আরেক বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অতুলনীয় অবদানের জন্য জাতি তাকে মনে রাখবে।

তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত মুহিতের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হাইকমিশন তাকে একজন বিশিষ্ট লেখক, দক্ষ অর্থনীতিবিদ ও বিচক্ষণ রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেছে।

উল্লেখ্য, মৃত্যুকালে আবুল মাল আবদুল মুহিতের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থমন্ত্রীদের একজন এবং আওয়ামী লীগের উন্নয়ন যুগের প্রধান স্থপতি। তিনি টানা ১০ বছর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেছেন।
২০২১ সালের ২৫ জুলাই তিনি করোনা আক্রান্ত হন এবং এর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তারপরে এ বছর মার্চ মাসে বার্ধক্যজনিত কারণে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

XS
SM
MD
LG