তালিবানের দাবি অস্বীকার করে উজবেকিস্তানের কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, গত গ্রীষ্মে আফগানিস্তানের প্রাক্তন সরকারের পতনের পর তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশকারী কয়েক ডজন বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং সেগুলো কাবুলের অন্তর্বর্তী সরকারকে ফেরত দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তটি তালিবানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণের প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে বাণিজ্যপথ বিকাশের জন্য উজবেক সরকারের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে।
প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এবং তালিবান বাহিনী রাজধানী কাবুল দখল করে নেওয়ার পর আফগান বিমান বাহিনীর কর্মীরা প্রায় ৫০টি হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমান নিয়ে উজবেকিস্তানে পাড়ি জমান৷ তালিবানদের হাতে যাতে না পড়ে সে জন্য আরও বেশ কিছু বিমান এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার প্রতিবেশী তাজিকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
তালিবান নেতারা তখন থেকে জোর দিয়ে দিয়ে বলে আসছেন যে, বিমানগুলো আফগান সম্পত্তি এবং সেগুলো প্রত্যাবর্তনের দাবিও করেছেন তারা।
জানুয়ারিতে কাবুলে আফগান বিমান বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময়, তালিবান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেছিলেন যে, তার সরকার কখনই বিমানগুলোকে তার উত্তরের প্রতিবেশীদের জব্দ বা ব্যবহার করতে দেবে না।
কিন্তু উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইসমাতুল্লা ইরগাশেভ তাসখন্দে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন যে, বিমানগুলো কাবুলে ফিরে যাবে না।
“যুক্তরাষ্ট্র সরকার এগুলোর জন্য অর্থ প্রদান করেছে”, ইরগাশেভ বলেছেন, আফগান বিষয়ে তার দেশের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। “যুক্তরাষ্ট্র পূর্ববর্তী আফগান সরকারকে অর্থায়ন করেছিল। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি যে, এগুলো নিয়ে কী করা হবে তা সম্পূর্ণ ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে”।
"আমরা এই সামরিক সরঞ্জামগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রেখেছি এবং তালিবানকে তা জানিয়েছি”।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ভয়েস অফ আমেরিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান, দুই দেশেরই তালিবানকে বিমানগুলো হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেই।
আফগানিস্তানের প্রাক্তন বিমানের ভাগ্য নিয়ে সংশয় থাকা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, এগুলো আফগানিস্তানের তালিবান শাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
এই অঞ্চলের একাধিক বেসরকারি তথ্য থেকে জানা যায়, প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ আফগান বিমান উজবেকিস্তানে প্রবেশ করে এবং আরও ১৪০ থেকে ১৫০ তাজিকিস্তানে যায়।
পাইলটদের সবাইকে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়েছিল এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
[ইসলামাবাদে আয়াজ গুল এবং ওয়াশিংটনে জেফ সেলডিন এই প্রতিবেদনের জন্য সহায়তা করেছেন]