অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনীয় নারীরা স্থলমাইন নিষ্ক্রিয়করণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন


আনাস্তাসিয়া মিনচুকোভা নামে একজন ইউক্রেনীয় নারী পশ্চিম কসোভো শহরের পেজায় বিস্ফোরক অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ ও অনুসন্ধান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণের সময় একটি মাইন ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করছেন। ২৫ এপ্রিল ২০২২।

ইউক্রেনে ইংরেজির শিক্ষক আনাস্তাসিয়া মিনচুকোভা কখনোই ভাবেননি যে, তাকে বিস্ফোরক শনাক্ত করা এবং নিষ্ক্রিয় করতে শেখার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। দেখা যায় মুখে ঢাল পরে স্থলমাইন ডিটেক্টর নিয়ে বিপজ্জনক সতর্কবাণী সম্বলিত একটি মাঠে প্রবেশ করছেন তিনি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে মিনচুকোভা (২০) এবং অন্য পাঁচজন নারী কসোভোতে আশ্রয় নেন। সেখানে তারা স্থলমাইন ও অন্য বিপজ্জনক বিস্ফোরক যেগুলো যুদ্ধ শেষে ছড়িয়ে থাকতে পারে, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করতে একটি সক্রিয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন।

মিনচুকোভা বলেছেন, “এখানে কীভাবে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে হয় জানে, এমন লোকেদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যেহেতু শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে”। “আমাদের বিশ্বাস তখন অনেক কাজ করতে হবে”।

১৮ দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরটি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেজারে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে একটি মাল্টাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে চাকরিপ্রার্থী, যুদ্ধ অঞ্চলে কাজ করা প্রাক্তন সংস্থা, মানবিক সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ দেয়।

প্রশিক্ষক আর্তুর তিগানি, যিনি ইউক্রেনের পরিবেশকে মাথায় রেখে প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম তৈরি করেছেন, তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় নারীদের সঙ্গে তার ছোট বলকান দেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পেরে তিনি আনন্দিত। যদিও ২৩ বছর পেরিয়ে গেছে, “কসোভোতে নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান শুরু করার সময় আমরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম সেটি এখনো আমাদের স্মৃতিতে তাজা”, তিগানি বলেন।

তিগানি একজন উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ মাইন অপারেশন অফিসার, যিনি ১৯৮০–এর দশকে প্রাক্তন যুগোস্লাভ সেনাবাহিনীতে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাকে তার জন্মভূমি কসোভোসহ শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, কঙ্গো, রুয়ান্ডা ও কেনিয়াতে মোতায়েন করা হয়েছে এবং তিনি সিরিয়া ও ইরাকে প্রশিক্ষণ মিশন পরিচালনা করেছেন।

যদিও এই মুহূর্তে ইউক্রেনে কী পরিমাণ মাইন এবং অবিস্ফোরিত অস্ত্র ছড়িয়ে আছে, তা মূল্যায়ন করা অসম্ভব, তবে অন্য জায়গায় সংঘাতপরবর্তী ঘটনা থেকে অনুমান করা হয়, সমস্যাটি গুরুতর হবে।

মাইন অ্যাকশন রিভিউ নামের একটি নরওয়েজিয়ান সংস্থা, যারা বিশ্বব্যাপী অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করে, রিপোর্ট করেছে যে, অক্টোবর পর্যন্ত ৫৬টি দেশ অবিস্ফোরিত অস্ত্র দ্বারা দূষিত হয়েছে। আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া ও ইরাক সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। তারপরে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, বসনিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ইয়েমেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনে হাজার হাজার বেসামরিক লোক মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ান বাহিনী সারা দেশের শহর ও নগরে বোমাবর্ষণ করেছে এবং অনেকগুলো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মনে হচ্ছে যে, রাশিয়ান বাহিনী অ্যান্টি-পার্সোনেল এবং অ্যান্টি-ভেহিক্যাল মাইন পেতেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন রুশদের প্রতিহত করতে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মাইন ব্যবহার করেছে।

কসোভো প্রশিক্ষণকেন্দ্র পেজা ও ইউক্রেনে আরও ইউক্রেনীয় নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।

“আমরা খুব শিগগিরই ইউক্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং সেখানে সাজানো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের আয়োজন শুরু করব”, তিগানি বলেন।

XS
SM
MD
LG