অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টিগ্রায় সাহায্য বিতরণে বাধা অব্যাহত থাকায় আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট

উত্তর ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের ডেবার্কে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের জন্য একটি শিবিরের বাসিন্দারা মধ্যাহ্নভোজের সময় খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ২৭ আগস্ট ২০২১।
উত্তর ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের ডেবার্কে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের জন্য একটি শিবিরের বাসিন্দারা মধ্যাহ্নভোজের সময় খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ২৭ আগস্ট ২০২১।

টিগ্রায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইথিওপিয়ার মানবিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দুর্গতদের কাছে খাবার ও ওষুধ পৌঁছাতে তাদেরকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়, এমন এলাকা এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতেও সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বা টিপিএলএফের দখলদার বাহিনী এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার চার মাস পরও ইথিওপিয়ার উত্তর আমহারা অঞ্চলে পোড়া ট্যাংক ও অন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম রাস্তার ধারে পড়ে আছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নৃশংস গৃহযুদ্ধ অবসানের পর আমহারা অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী আফার ও টিগ্রায় অঞ্চলে প্রায় ৯৪ লাখ (৯.৪ মিলিয়ন) মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু সাহায্য পৌঁছাতে বেশ দেরি হচ্ছে।

১৭ বছর বয়সী আহমেদ নুরু ওরোমিয়া অঞ্চলে বাস করত। আমহারা জাতিগত সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ার কারণে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বলে জানায় সে। ছোটবেলায় মাকে হারায় সে। গত বছর, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার কারণে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা না পেয়ে তার বাবার মৃত্যু হয়।

এখন বোনদের দেখাশোনা করার জন্য একমাত্র নুরুই রয়েছে। তার এক বোনের বয়স ১০ বছর, আরেকজনের বয়স ৮। সে বলে, এখানে জীবনধারণ খুব কঠিন এবং বোনদের কীভাবে মানুষ করবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে।

আহমেদ যেখানে বাস করে, সেই শিবিরের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড্যানিয়েল টিগাবু বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধ নেই। কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ফুরিয়ে এসেছে, সেই সঙ্গে ম্যালেরিয়া, হেপাটাইটিস ও এইচআইভি পরীক্ষার সরঞ্জামের সংকট রয়েছে।

আমহারা অঞ্চলের বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্মিত এই শিবিরে কয়েক হাজার লোক বাস করেন। অন্যরা একই সম্প্রদায়ের লোকেদের সঙ্গে বাস করেন। যেমন টিপিএলএফের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় টিবেবু তার স্বামীকে হারিয়েছেন।

হাইক শিবিরে নিয়োজিত সাহায্যকর্মী মুলুগেতা কেবেদে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, আমহারাজুড়ে নুরু ও টিবেবুর মতো অসংখ্য মানুষ রয়েছে।

সংঘাতের ফলে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ওয়েল্ডিয়ার হাইকের উত্তরে বাস করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও উত্তর ওলো জোনের মুখপাত্র, হাবতেমারিয়াম আসেফা বলেন, এলাকাটিতে কয়েক মাস ধরে সংঘাত বিদ্যমান থাকায় টিপিএলএফ চলে যাওয়ার পরে সামান্য রসদ অবশিষ্ট ছিল। তিনি বলেন, তখন থেকে মাত্র দুবার সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ বা ফেডারেল সরকারের দেওয়া সাহায্য যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘ বলেছে, টিগ্রায়ের আমহারা অঞ্চলের উত্তরে যেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি আরও খারাপ। জাতিসংঘের মতে টিগ্রায় কার্যত মানবিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে।

XS
SM
MD
LG