অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ, বাসে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ


পাটু‌রিয়া ফেরিঘাট

ঈদ শেষে ঢাকামুখী অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে মানিকগ‌ঞ্জ জেলার পাটু‌রিয়া ফেরিঘাটে।

শনিবার (৭ মে) ভোর থেকেই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ফেরি ও লঞ্চে করে আসছেন পাটুরিয়ায়। ফেরিগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ফেরিতে শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতেও আসছেন যাত্রীরা।

তবে ফেরিঘাটে যাত্রীদের তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। ফেরি কিংবা লঞ্চ থেকে নেমে যাত্রীরা এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে লোকাল বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু বাসে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থল আশুলিয়া যাচ্ছেন। কাটা লাইন সার্ভিসে করে ভোগান্তি ছাড়াই দৌলতদিয়াঘাটে আসেন। সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়াঘাটে নামেন। এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে আবারও কাটা লাইন সার্ভিসের বাসে চড়েন। কিন্তু বাসের নির্ধারিত ভাড়া ১০০ টাকা হলেও তাদের চার সিটের ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৮০০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে দ্বিগুন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

একইভাবে গার্মেন্টস কর্মী জাহানারা বেগম জানান, ওপার থেকে লঞ্চে এপাড়ে এসে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। শুভযাত্রা পরিবহনের লোকাল বাসে সাভারের নবীনগর পর্যন্ত ভাড়া দিয়েছেন ১৫০ টাকা। অথচ সব সময় ৮০ টাকায় নবীনগর যাতায়াত করেন।

তিনি বলেন, “এভাবে প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কাটা লাইন সার্ভিসের যাত্রীদের কাছ থেকে”।

পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ১ নম্বর ট্রাক টার্মিনালে কাটা লাইন সার্ভিসের বাসগুলো যাত্রীর অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। নবীনবরণ, সেলফি পরিবহন, পদ্মা লাইন, যাত্রীসেবা, শুভযাত্রা, ভিলেজ লাইনসহ বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বহু বাস রয়েছে টার্মিনালে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাসের সংকট না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

এ ব্যাপারে পদ্মা লাইন সার্ভিসের এক বাসচালক জানান, ঢাকা থেকে ফিরতিপথে খালি গাড়ি নিয়ে আসতে হয় বিধায় দ্বিগুন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পাটুরিয়ার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, লঞ্চগুলোতে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী আসছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে লঞ্চগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, যাত্রীর তুলনায় লঞ্চ কম থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে উঠতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ কিংবা লঞ্চ কতৃপক্ষের কোনো তদারকি দেখা যাচ্ছে না।

পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার পান্নু লাল লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মূলত লঞ্চগুলো আসছে দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে। সেখানে তদারকি না করা হলে এ পাশ (পাটুরিয়াঘাট) দেখে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না”।

এদিকে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে স্বাভাবিকভাবে চলাচলকারী ১৯টি ফেরির সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি দুটি ফেরি যুক্ত করা হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যেই দুই–তিনটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে। এতে ফেরির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডিজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ বলেন, “ঈদ উপলক্ষে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ২১টি করা হলেও হঠাৎ দুই-একটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে। সেগুলো পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামত করে পুনরায় পারাপারে যুক্ত করা হচ্ছে”।

XS
SM
MD
LG