কাবুল, আফগানিস্তান — তালিবান বলেছে, আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার অনুমতি দেওয়ার জন্য, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায়, ষষ্ঠ শ্রেণির উপরে মেয়েদের স্কুল আবার খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে, ‘মুসলিম আলেমরা’ শীগগিরই বৈঠক করবেন।
শিক্ষা মন্ত্রকের তালিবান মুখপাত্র আজিজ আহমেদ রায়ান শুক্রবার ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য ‘আলেমদের দায়িত্ব’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
রায়ান বলেন, “ঈদের পর আলেমদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক ও পরামর্শ হবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।আমরা অনেক আশাবাদী। আল্লাহ চান তো, এসব বৈঠক থেকে একটি ইতিবাচক ফল আসবে।”
অন্যদিকে, একজন শীর্ষস্থানীয় তালিবান সদস্য আনাস হাক্কানি বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশ খোস্তে এক সমাবেশে বলেছেন, “মেয়েদের স্কুলের সমস্যা সমাধানের জন্য, আলেমদের একটি সম্মেলন ডাকা হবে।” তবে সম্মেলনের সঠিক দিনক্ষণ তিনি উল্লেখ করেননি।
সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার উপযোগি প্রায় ৮০% মেয়েকে স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মার্চে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় আবার চালু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তালিবান শেষ মুহূর্তে এই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটে যায়।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগি ১১ লাখ ছাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগ, অর্থাৎ, প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার জনই ক্লাসে যেতে পারছে না।”
তালিবান, ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর, নারীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। এদের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরাও রয়েছে।
তবে, মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার জন্য তালিবানের উপর চাপ বাড়ছে।
সারাদেশে আফগানিস্তান জুড়ে, আলেম এবং অধিকার কর্মীরা, মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার জন্যে তালিবানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদার এবং মিত্রদের নিয়ে, মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার বিষয়ে, তালিবানের সাথে আলোচনা করছে।
ওই মুখপাত্র বলেন, “ চলমান সবরকম প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে, সব স্তরে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্যে এবং আফগান জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করার জন্যে আমরা তালিবানের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”