অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হাইতির রাজধানীতে গোষ্ঠি-সংঘাতে বহু লোকের মৃত্যু


হাইতির পোর্ট-অ্য-প্রিন্সের লা প্লেইন মহল্লায়, শান্তি ও নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করছেন, ৬ মার্চ ২০২২।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটকে ছিলেন জ্যাকসন । তখন হাইতির রাজধানীতে, তার মহল্লাজুড়ে গোলাগুলি চলছিলো। তিনি আশা করেছিলেন যে, এলাকার দখল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধি চক্রগুলোর মধ্যে অব্যাহত লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে কেউ না কেউ এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, “আটদিন ধরে অনবরত গোলাগুলি চলেছে, আমরা পুলিশ হস্তক্ষেপ আশা করছিলাম।”

শেষ পর্যন্তও পুলিশ আসেনি। তাই, আরও হাজার হাজার মানুষের মতই, ২৯ বছর বয়সী জ্যাকসনও, কেবল তার পরনের কাপড়টুকু নিয়েই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

জাতিসংঘ শুক্রবার জানিয়েছে যে, পোর্ট-অ্য-প্রিন্সের উত্তরাঞ্চলের বিত্তহীন বস্তিগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যকার সংঘাত অন্তত ৭৫ জনের জীবন কেড়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশুও । এই সংঘাত, ২৪ এপ্রিল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে যে তারা শহরের “নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন”।

তারা আরও জানায়, সংঘাতময় উত্তরাঞ্চলের শহরতলীগুলোর অন্তত ৯,০০০ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে, আত্মীয়স্বজনদের কাছে কিংবা গির্জা ও বিদ্যালয়ের মত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

জ্যাকসন রবিবার পর্যন্ত টিকে ছিলেন। তিনি যখন গির্জা থেকে ফিরছিলেন, তখন তার দরজার সামনেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

জ্যাকসন বলেন, “আমি জানতাম না যে ‘৪০০ মায়োজো’ গ্যাংয়ের সদস্যরা, তার বাসার কাছের সেতু পার হয়ে এলাকায় ঢুকে পড়েছে।” এটিই অপরাধি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক।

তিনি বলেন, “হঠাৎ আমি প্রতিবেশিদের চিৎকার করতে শুনি যে, তারা ‘চৌরাস্তায়’ এসে পড়েছে’,।অর্থাৎ তারা আমার থেকে মাত্র ৩০ থেকে, ৪০ মিটার দূরে রয়েছে। আমার সাথে আমার পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং আমার ইন্স্যুরেন্স কার্ড ছিল। আমি আমার পাসপোর্ট নেই এবং দৌড়ে বের হয়ে যাই।”

তিনি যখন নিকটবর্তী একটি তেলের পাম্প পার হচ্ছিলেন, তখন তিনি দেখতে পান যে, সেখানে পার্ক করে থাকা মোটরসাইকেল চালক ও ট্যাক্সি চালকদের এই বলে ধমকাচ্ছে যে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের হয়ে নজরদারির করছে। জ্যাকসন বলেন, “ এরপর তারা, চালকদের গুলি করে মেরে ফেলে”।


XS
SM
MD
LG