অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জামালপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের আটকের ঘটনায় পুলিশের ৪ এসআই বরখাস্ত


বাংলাদেশের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত এক ভিক্ষুক পরিবারকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে জেলে প্রেরণের ঘটনায় পুলিশের চারজন এসআইকে বরখাস্ত ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মে) সকালে জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাতে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন-সরিষাবাড়ী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী ও মুনতাজ আলী। এ ছাড়া দুই পুলিশ কনস্টেবল মোজাম্মেল হক ও সাথী আক্তারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মে) দুপুরে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসী বাজার এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে মজিবর রহমান ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে একই এলাকার ভিক্ষুক আব্দুল জলিলের জমি জবর দখলে নিতে তার বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলায় গুরুতর আহত ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬০) ও তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০) এবং আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), ওয়াজকরনী (২৫), জসিম (৩২), ছালমা (৩৮), শুভ (১৯) ও শাহীদাকে (৫৫) পুলিশি হেফাজতে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে হামলার পর মুজিবর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন চারজনসহ ১৫ জনের নামে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত আহত ওই চারজনকে আটক করে। এ সময় চিকিৎসাধীন ওই চারজন পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ হাসপাতালের শয্যা থেকে তাদেরকে টেনে হেঁচড়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে কিছু সময় তাদের থানায় রেখে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করে।

ভিক্ষুক আব্দুল জলিলের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার রাতে আব্দুল জলিল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ উল্টো তাকে থানায় আটকে রাখে। পরে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতে ওই ভিক্ষুক পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, “আহতদের চিকিৎসা চলাকালেই পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চিকিৎসাধীন অভিযুক্তদের যেভাবে আটক করা হয়েছে তা অমানবিক”।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, “মুজিবর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়”।

তিনি বলেন, “হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় পরই তাদেরকে আটক করা হয়”।

জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাকির হোসেন সুমনকে দায়িত্ব দিয়ে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

XS
SM
MD
LG