অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উত্তর কোরিয়ায় সংক্রামক জ্বরে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু


টোকিওতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর মাস্ক পরা ছবি প্রদর্শনের সময়ে, টেলিভিশনের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন, ১৩ মে ২০২২।

উত্তর কোরিয়া জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শুক্রবার অতিরিক্ত আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সরকারী কেসিএনএ সংবাদ সংস্থা শনিবার এমন তথ্য জানায়। এটিই দেশটিতে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ঘটনা।

কেসিএনএ-কে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২,৮১,০০০ মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এপ্রিলের শেষ দিকে সনাক্ত হওয়া জ্বরে এ পর্যন্ত মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জ্বরের কারণ সনাক্ত করা যায়নি।

অতিরিক্ত এই মৃত্যুর জন্য কোভিড-১৯ দায়ী কিনা সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিছু বলেনি বলে, রয়টার্স জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার কেসিএনএ জানিয়েছিল যে, করোনাভাইরাসের ওমিক্রণ প্রকরণকে একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির এক জরুরি সভায় কথা বলার সময়ে শনিবার, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেন যে, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বিশ্বকে যতটা গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে তা বিবেচনায় নিলে, এটি দেশটির উপর বর্তানো সবচেয়ে ব্যাপক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। তবে, তিনি এও বলেন যে, ভাইরাসটি অপ্রতিরোধ্য নয়, কারণ সংক্রমণ এখনও এমন এলাকায় রয়েছে যেখান থেকে সেটির বিস্তার রোধ করা সম্ভব। যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে আস্থা রাখতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

উত্তর কোরিয়ার মত দেশের কাছ থেকে বিগত তিন দিনের কোভিড সংক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করার মত ঘটনা নজিরবিহীন। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দেশটি দাবি করে আসছিল যে, তারা কোভিড-১৯’এর “শূন্য” সংক্রমণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার আগে, কয়েক মাস ধরেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জীবাণুমুক্তকরণ প্রচেষ্টা সম্পর্কে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছিল। একই সাথে এই “অশুভ ভাইরাস” কিভাবে পৃথিবীর অন্যান্য এলাকা জর্জরিত করে ফেলেছে, সে বিষয়েও সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল।

এপ্রিলে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ষপূর্তি পালন করা হয়। ১৫ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং এর ১১০তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। এর ১০ দিন পর, সামরিক বাহিনীর ৯০তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। দুইটি অনুষ্ঠানেই পিয়ংইয়ং এ সঙ্কীর্ণ এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে, যাদের কেউই মাস্ক পরেননি। বর্তমানে পিয়ংইয়ং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



XS
SM
MD
LG