অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জে ১৮ হাজার লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার


c

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের চলমান সংকটের মধ্যে মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার লিটার সয়াবিন ও পাম তেল উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মানিকগঞ্জে ১০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা বাজারে অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ১০ হাজার লিটার সয়াবিন উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়। এ ছাড়া বাজারের আলতাফ স্টোরের মালিককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা বাজারে শনিবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আলতাফ স্টোরে বিপুল পরিমাণ তেলের অবৈধ মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। ঈদের আগে অবৈধভাবে মজুদ করা বিভিন্ন ব্যান্ডের ১, ২ ও ৫ লিটারের বোতলজাত ৩ হাজার ৫শ লিটার তেল গুদামে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ৫ লিটারের বোতলজাত তেল খুলে ড্রামে ভরে সংরক্ষণ করা অবস্থায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ লিটার তেল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, “২ লিটারের বোতলজাত তেলের ৩৩৪ টাকা মূল্য থাকা সত্বেও ৩৮০ টাকায় ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেল উপস্থিত ভোক্তাদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়”।

চট্টগ্রামে ৬ হাজার লিটার সয়াবিন ও পাম তেল জব্দ

চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দরটিলা সল্টগোলা এলাকায় বিভিন্ন গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ১২০ লিটার খোলা সয়াবিন ও পাম তেল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রবিবার (১৫ মে) বেলা ১১টায় সল্টগোলা ঈশান মিস্ত্রীর বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।

এ সময় অবৈধভাবে তেল মজুত করার অভিযোগে সল্টগোলার মেসার্স আসাদ বাণিজ্যালয়কে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার নগরীর আগ্রাবাদ কর্ণফুলি বাজারে দুই দফা অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল উদ্ধার করে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিদার হোসেন বলেন, “ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ পরিচালনায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে। সকাল থেকে সল্টগোলা ঈশান মিস্ত্রী বাজারের কয়েকটি দোকানে আমরা অভিযান চালাই। এ সময় মেসার্স আসাদ নামে এক প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা ৬ হাজার ১২০ লিটার খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের সন্ধান পাই। এসব সয়াবিন তেল লিটারে ১৩৩ টাকা ও পাম তেল ১২৭ টাকা দরে কিনেছিল মো. ইলিয়াস হোসেন নামে ব্যবসায়ী। পরে মজুদ করে বর্তমান মূল্যে বিক্রি করছিল”।

তিনি বলেন, “আমাদের অভিযানে এ সত্যতা মেলায় আমরা মজুতদারির অপরাধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আাদায় করি। এ ছাড়া ওই তেলগুলো আগের দামে বিক্রির আদেশ দিয়েছি ওই ব্যবসায়ীকে। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে”।

হবিগঞ্জে সয়াবিন তেল জব্দ করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল ও বানিয়চং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শনিবার (১৪ মে) অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে উদ্ধারকৃত তেল খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা ও বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদামে অবৈধভাবে মজুদ করা ১৫০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বেশি দামে পণ্য বিক্রি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়ের কারণে মেসার্স শহীদ স্টোরকে ১২ হাজার, মেসার্স রউফ এন্টার প্রাইজকে ৫ হাজার টাকা, জিহাদ স্টোরকে ১০ হাজার ও মেসার্স সালমান স্টোরকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে বানিযাচং উপজেলার বড় বাজার ও গানিংগঞ্জ বাজারে ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করে তাৎক্ষণিক খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয়। বড় বাজারের ব্যবসায়ী হানু মিয়া, আমির হোসেন ও গানিংগঞ্জ বাজারের অর্জুন মোদকের গুদাম থেকে তেলগুলো জব্দ করা হয়।

XS
SM
MD
LG