অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবান নীতি সমাজে আফগান নারীদের অদৃশ্য করে ফেলছে: জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সরকারি পাসপোর্ট দফতরে দুই নারী প্রবেশ করার সময়ে পাশে পাহাররত অবস্থায় এক তালিবান যোদ্ধা, ২৭ এপ্রিল ২০২২।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সরকারি পাসপোর্ট দফতরে দুই নারী প্রবেশ করার সময়ে পাশে পাহাররত অবস্থায় এক তালিবান যোদ্ধা, ২৭ এপ্রিল ২০২২।

গত আগস্টে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তান জুড়ে “জনজীবন থেকে নারীদের মুছে ফেলার” বিষয়ে বৃহস্পতিবার গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক।

আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক, রিচার্ড বেনেট তার ১১ দিনের সফর শেষে কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, “আফগানিস্তান অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যেগুলো দেশটির জনগণের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।” এটিই আফগানিস্তানে বেনেটের প্রথম সফর।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব যে, তারা যেই মানবাধিকার চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন সেগুলোকে স্বীকার করতে এবং তাদের কথা এবং কাজের মধ্যকার তফাৎ এর দূরত্ব কমিয়ে আনতে।”

বিদ্রোহী থেকে শাসক হয়ে উঠা এই দলের, শুধুমাত্র পুরুষ দ্বারা গঠিত এই সরকার আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে, বেশিরভাগ নারী কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে ফিরে আসা রোধ করেছে, নারীদের একাকী সফর করা নিষিদ্ধ করেছে, তাদের জনসম্মুখে নিজেদের পুরোপুরি ঢেকে রাখতে আদেশ করেছে যার মধ্যে তাদের মুখমন্ডলও রয়েছে, এবং বাসার ভেতরে থাকতে তাদেরকে জোরালো ভাবে উপদেশ করেছে।

বেনেট বলেন, এই নীতিগুলো “চরম লিঙ্গ বিভাজন এর একটি নমুনা এবং সমাজে নারীদের অদৃশ্য করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।”


জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ তালিবান নেতা এবং নারী মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিসহ আফগান সুশীল সমাজের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ বক্তব্য রাখার দিনই কাবুলে তালিবান বাহিনী নারীদের এক বিক্ষোভে বাধা দেয় বলে খবর পাওয়া যায়। ঐ বিক্ষোভে মেয়েদের বিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

This item is part of
XS
SM
MD
LG