অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শান্তিচুক্তি ২ মাসের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলো


ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমানহামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ভবনের ধ্বংসস্তুপের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বিমানবন্দরের এক কর্মী, ২১ ডিসেম্বর ২০২১। (ফাইল ফটো)

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় করা এক শান্তিচুক্তি, মূল চুক্তির শর্তেই আরও দুই মাসের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলো। চুক্তিটির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইয়েমেনে জাতিসংঘের দূত এমন তথ্য জানিয়েছেন।

আলোচনা চালিয়ে যেতে সৌদি সমর্থিত সরকারের প্রতিনিধিদল এবং আন্দোলনের পক্ষের প্রতিনিধিদের জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ফিরে আসার বিষয়ে আশা করা হচ্ছে বলে ইয়েমেনের কর্মকর্তারা জানান।

ঐ শান্তিচুক্তির ফলে ইয়েমেনে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান এবং আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইরানের পক্ষাবলম্বী হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সাতবছর ধরে যুদ্ধ চলছিল। ঐ চুক্তির ফলে সেখানে মানবিক সংকটেরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে, যেই সংকটের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় রয়েছে।

ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রান্ডবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, “গত দুই মাস ধরে, ইয়েমেনের মানুষজন শান্তিচুক্তির বাস্তব সুবিধা ভোগ করেছে।”

সংঘাত অবসানে এই চুক্তিটিই অনেক বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ঐ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্কে আরও উত্তেজনার সঞ্চার করেছে।

চুক্তিটি নবায়নের ফলে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে জ্বালানী সরবরাহকারী জাহাজগুলো ভিড়ানো অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও রাজধানী সানা-র বিমানবন্দর থেকে কিছু কিছু বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করাও সম্ভব হবে। বিমানবন্দরটিও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চুক্তিটি পুনরুদ্ধারে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হয়। বিতর্কিত তাইজ-এ সড়ক পুনরায় খুলে দেওয়ায়, আলোচনা হুমকির মুখে পড়েছিল। হুথি সৈন্যরা কয়েক বছর ধরে তাইজ অবরোধ করে রেখেছে।

এদিকে আরও সম্প্রসারিত রাজনৈতিক আলোচনা আরম্ভের চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। এমন আলোচনার মধ্যে ইয়েমেনের বিধ্বস্ত অর্থনীতি, সরকারি আয় এবং সরকারি খাতের বেতন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়া ঠেকানো বিষয়ক আলোচনাও রয়েছে।

XS
SM
MD
LG