অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রতিকূল সম্পর্কের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে


ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে ইউক্রেন ডিফেন্স কন্ট্যাক্ট গ্রুপের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সংবাদদাতাদের সাথে আলাপ করছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন, ২৩ মে ২০২২। (ফাইল ফটো)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এই সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বিরল সামনাসামনি সাক্ষাৎ হবে। তবে, দুই পক্ষের মধ্যকার প্রতিকূল সম্পর্কের মধ্যে সম্মতির জায়গা খুঁজে পাওয়া হয়ত দুষ্কর হবে।

পেন্টাগন প্রধান ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিরক্ষা আলোচনায়, তাইওয়ান একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। প্রয়োজনে তাইওয়ানকে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে চীন।

গত মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন যে, চীন আক্রমণ চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। এর ফলে দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোন পরিবর্তন হয়নি।

কিন্তু এশিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেমস ক্র্যাবট্রি মনে করেন, বাইডেনের এমন মন্তব্যকে চীন ভালভাবে নেয়নি।

অপরদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধটিও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিভাজনকে বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও, চীন প্রকাশ্যে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানায়নি, তবুও তারা রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্কের বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনে অনেকের মধ্যেই উৎকন্ঠা দেখা দেয়।

অনেক দেশই শঙ্কিত যে যদি সংঘর্ষ আরম্ভ হয়, তাহলে তারাও একটি গুরুতর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লিম টাই ওয়েই বলেন যে, ঐ অঞ্চলের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার আলোচনাকে স্বাগত জানায়।

তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতারও সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে যেই অবস্থায় রয়েছে, তাতে একসাথে কাজ করার সুযোগ হয়ত বেশ কমই হবে।

XS
SM
MD
LG