অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এশিয় নারী সাংবাদিকরা কথিত বেইজিং-সমর্থিত প্রচারে হয়রানির শিকার


হংকংয়ের সরকারী সদর দফতরে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের সাথে একটি সংবাদ সম্মেলনের সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য হাত তুলেছেন। ১৫ জুন, ২০১৯।

সহিংসতা ও ধর্ষণের হুমকি। বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ। চেহারা-সাজ-পোষাক নিয়ে অপমান। চীনের রাজনীতি বা মানবাধিকার কভার করা এশিয় সাংবাদিকরা, বিশেষ করে নারীরা, যখনই এ বিষয়ে কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করে তখনই অনলাইনে হামলার ঝুঁকিতে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় চীনের সাংবাদিক এবং চীনের অন্যান্য বিশ্লেষকরা টুইটারে একটি "চলমান, সমন্বিত এবং বৃহৎ আকারের অনলাইন তথ্য প্রচারের" সম্মুখীন হচ্ছেন, যেখানে এশিয় বংশোদ্ভূত নারীরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় অবস্থিত ওই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জানিয়েছে যে, অপারেশনের পিছনে থাকা অপ্রমাণিত টুইটার অ্যাকাউন্টগুলি সম্ভবত "স্প্যামাফ্লেজ", একটি চীনপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) নেটওয়ার্কের আরেকটি রূপ, যার জন্য টুইটার ২০১৯ সালে বেইজিংকে দায়ী করেছিল।

বেসরকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ-এর প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মেই ফং ভিওএ-কে একটি ইমেলে বলেছেন, "নারী অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকরা যে এই ধরনের টার্গেটেড ট্রলিং-এর মুখোমুখি হচ্ছেন, তা এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে যে, এটি সোশ্যাল মিডিয়াকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে কিংবা কিছুটা স্ব-সেন্সরশিপ অনুশীলন করতে বাধ্য করছে।" তিনি আরও বলেন, এই প্রচারণার লক্ষ্য "যারা ক্ষমতাসীনদের সত্য কথা বলছে, তাদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা।"

এএসপিআই রিপোর্টে যেসব নারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ফং-ও রয়েছেন, যারা সর্বশেষ হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তবে, ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ ভিওএ-কে বলেছেন, "চীন নারী গোষ্ঠীর হয়রানির নিন্দা করে এবং প্রমাণ ছাড়াই এটিকে চীনা সরকারের সাথে যুক্ত করার বিরোধিতা করে।

টুইটারের একজন মুখপাত্রের মতে, এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে চিহ্নিত কার্যকলাপ "স্প্যামাফ্লেজ" নেটওয়ার্কের অংশ ছিল এবং কোম্পানিটি তাদের প্ল্যাটফর্ম নীতি লঙ্ঘনের জন্য ৪০০ টিরও বেশি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এছাড়া তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র।

XS
SM
MD
LG