অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কুড়িগ্রামে নতুন এলাকা প্লাবিত, আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী


ফাইল ছবি- বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের মানুষ বন্যার পানির পরিস্থিতি দেখছেন।১৬ জুলাই ২০১৯। (ছবি- রেহমান আসাদ/এএফপি)

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। হু-হু করে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলায় সেতু পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন,জেলায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা অন্তত আড়াই লাখ।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেতে পারে।”

এদিকে, বন্যায় এখন পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা অন্তত আড়াই লাখ। বন্যা কবলিতদের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসি মানুষের মধ্যে পানিবাহিত চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও জ্বর দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, “জেলার ২৮৪টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের ২৭ হাজার ১৯৭টি পরিবারের ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮৮ জন পানিবন্দী হয়ে আছে। জেলার রাজিবপুর-৭টি, রৌমারী-৪৪টি চিলমারী-২৬টি, উলিপুর-২০টি, কুড়িগ্রাম সদর-১১টি, নাগেশ্বরী এবং রাজারহাটে একটি করে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জেলার ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি মাদরাসা এবং একটি কলেজে সাময়িক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।”

খামারবাড়ীর উপপরিচালক মো. আব্দুর রশীদ জানান, “বন্যায় ১৩ হাজার ৭১১ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।”

জেলা মৎস্য অফিসার কালিপদ রায় জানান, “ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্বশেষ এক হাজার ১৬৩ জন চাষীর এক হাজার ২৫৭টি পুকুর, দীঘি ও খামার ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ১৭৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার।”

সিভিল সার্জন ডা. মো. মনজুর এ মোর্শেদ জানান, “বন্যার্তদের সহযোগিতায়, মেডিকেল অফিসারদে নেতৃত্বে ৮৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ৯ উপজেলায় ৯টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মেডিকেল টিমের সদস্যরা বন্যাকবলিত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, “এখন পর্যন্ত বন্যায় ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আর, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গো-খাদ্য ক্রয় করা হচ্ছে।”

XS
SM
MD
LG